ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টুং-টাং শব্দে মুখরিত হাট-বাজার, রাতভর চলছে দা-ছুরি তৈরির কাজ

author
আনোয়ারা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২৫ মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৪১
ad003
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা জুড়ে জমে উঠেছে কামারপাড়া। উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে এখন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শোনা যাচ্ছে লোহা পেটানোর টুং-টাং শব্দ। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের জন্য প্রয়োজনীয় দা, চাপাতি, ছুরি, বঁটি, ঘুরিসহ নানা ধরনের ধারালো হাতিয়ার তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামার শিল্পীরা।

ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে কাজের চাপ। অনেক কামারেরই দম ফেলার ফুরসত নেই। সকাল থেকে রাত অবধি আগুনের তাপে লোহা পুড়িয়ে হাতুড়ির আঘাতে তৈরি করা হচ্ছে কোরবানির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। একই সঙ্গে পুরনো দা-বঁটি-ছুরি শান দিতেও ভিড় করছেন ক্রেতারা।

উপজেলার পরৈকোড়া ছত্তারহাট, বটতলী রুস্তমহাট, চাতরী চৌমুহনী বাজার, মহাল খান বাজার, জুঁইদন্ডী, মালঘর বাজার, জয়কালী বাজার, গহিরা দোভাষীহাট ও সরকারহাট এলাকার কামারপাড়াগুলোতে এখন চলছে কর্মচাঞ্চল্য। ভোর থেকেই দোকানে ভিড় করছেন ক্রেতারা। কেউ নতুন দা বা ছুরি তৈরি করাচ্ছেন, আবার কেউ পুরনো হাতিয়ার শান দিয়ে নতুনের মতো প্রস্তুত করছেন কোরবানির জন্য।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জ্বলন্ত কয়লার আগুনে লোহা গরম করে দক্ষ হাতে তা পিটিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ধারালো যন্ত্র। প্রতিটি দোকানে একাধিক কর্মচারী একসঙ্গে কাজ করছেন। কোথাও চলছে লোহা কাটার কাজ, কোথাও আগুনে তাপ দেওয়া, আবার কোথাও ধার লাগানোর ব্যস্ততা।

পরৈকোড়া ইউনিয়নের ছত্তারহাট এলাকার কামার শিল্পী বিমল কর্মকার বলেন, ঈদের আগে দা-ছুরির চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। এজন্য সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। এখন একটু বসারও সময় নেই।

তবে বাড়তি পরিশ্রমের পরও খুব একটা লাভ হচ্ছে না বলে জানান কামাররা। তাদের অভিযোগ, লোহা ও কয়লার দাম কয়েকগুণ বেড়ে গেলেও সেই অনুপাতে বাড়েনি তৈরি পণ্যের দাম। ফলে দিনরাত পরিশ্রম করেও আগের মতো আয় করতে পারছেন না তারা।

স্থানীয়রা বলছেন, আধুনিক যন্ত্রপাতির যুগেও কোরবানির ঈদ এলেই ঐতিহ্যবাহী কামার শিল্পের কদর বেড়ে যায়। প্রতি বছরের মতো এবারও আনোয়ারার বিভিন্ন কামারপাড়া হয়ে উঠেছে কোরবানির প্রস্তুতির অন্যতম ব্যস্ত কেন্দ্র।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT