ঢাকা | সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিয়ে হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা

author
হাবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ৩০ মে, ২০২৬ সকাল ৭:০৭
ad003
বাংলাদেশের প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয়েই ছাত্ররাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং আলোচিত বিষয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন ও ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে ছাত্ররাজনৈতিক সংগঠনগুলোও এসকল আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু ছাত্ররাজনীতি একদিকে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বগুণ, সচেতনতা ও অধিকার আদায়ের ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হলেও অন্যদিকে সহিংসতা, শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার মতো অভিযোগও রয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীরা ছাত্ররাজনীতি সম্পর্কে কী ভাবছে, এসব বিষয় ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিয়ে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মাদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা তুলে ধরেছেন তাদের ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিজ্ঞতা।

ছাত্ররাজনীতি ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা করতে শেখায়

আমি বিশ্বাস করি ছাত্ররাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ক্যাম্পাসে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা। একজন শিক্ষার্থী যখন ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয় তখন তার মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি হয় এবং দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে সে অন্যের মতামতকে শ্রদ্ধা করতে শেখে, ভিন্নমতকে সহনশীলতার সঙ্গে গ্রহণ করার মানসিকতা অর্জন করে এবং গণতান্ত্রিক চর্চার বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভ করে। ছাত্ররাজনীতি শিক্ষার্থীদের সমাজ ও রাষ্ট্র সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। দেশের চলমান সমস্যা, শিক্ষা খাতের সংকট, সামাজিক বৈষম্য কিংবা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার সাহস ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমেই তৈরি হয়। ছাত্ররাজনীতি অবশ্যই সহিংসতা, বিভাজন ও ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে থাকতে হবে। একটি ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি হবে শিক্ষাবান্ধব, মানবিক ও যুক্তিনির্ভর। যেখানে মেধা, যোগ্যতা ও আদর্শকে মূল্যায়ন করা হবে। যেখানে শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে কাজ করা হবে এবং ক্যাম্পাসে ভ্রাতৃত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় থাকবে। আমি চাই এমন একটি ছাত্ররাজনীতি, যা শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

আশিক, হাবিপ্রবি শিক্ষার্থী
শিক্ষাবর্ষঃ ২০২০-২১

ছাত্র রাজনীতি হোক 'ছাত্র সংসদ' কেন্দ্রিক

বর্তমানে আমরা বাস সংকট, অতিরিক্ত ক্রেডিট ফি এবং সেশনজটের মতো অসংখ্য সমস্যায় জর্জরিত। অথচ তথাকথিত ছাত্র সংগঠনগুলোকে এসব সমাধানে কোনো কার্যকর ভূমিকা নিতে দেখা যায় না। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ২১ বা ২২ ব্যাচের সাধারণ শিক্ষার্থীরা হলে সিট না পেলেও; দলীয় পরিচয়ে ২৪ বা ২৫ ব্যাচের নবীনরা সহজেই সিট পেয়ে যাচ্ছে। ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে আমরা যে বৈষম্যমুক্ত ক্যাম্পাসের স্বপ্ন দেখেছিলাম; তা দলীয় লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির মাধ্যমে সম্ভব নয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষার একমাত্র পথ হলো 'ছাত্র সংসদ' কেন্দ্রিক রাজনীতি। যেখানে নেতৃত্ব হবে নির্বাচিত এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে দায়বদ্ধ। ক্যাম্পাস হোক সাধারণ শিক্ষার্থীদের।

আসাদুজ্জামান নূর, হাবিপ্রবি শিক্ষার্থী
শিক্ষাবর্ষঃ ২০২০-২০২১

ছাত্র রাজনীতি জাতীয় নেতৃত্ব তৈরিতে ভূমিকা রাখছে

ছাত্র রাজনীতি তরুণদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে সহায়তা করে। একজন শিক্ষার্থী যখন কোনো সংগঠনের সাথে যুক্ত হয় তখন সে সংগঠন পরিচালনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দল পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা অর্জন করে। ভবিষ্যতে এই দক্ষতাগুলো তাকে জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত করে। তবে এই ইতিবাচক দিকগুলোর পাশাপাশি কিছু নেতিবাচক বাস্তবতাও বিদ্যমান। ক্ষমতার অপব্যবহার, সহিংসতা, টেন্ডারবাজি, এবং ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারের মতো অভিযোগ উঠে এসেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এমন ঘটনাও এসেছে যেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীরা হয়রানির শিকার হয়েছে বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত হয়েছে।
এ ধরনের কর্মকাণ্ড ছাত্র রাজনীতির মূল উদ্দেশ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং একটি ভয় ও অস্থিরতার পরিবেশ সৃষ্টি করে, যা শিক্ষার জন্য মোটেই সহায়ক নয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে মেধাবী শিক্ষার্থীরা রাজনীতি থেকে দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়। দলগত কাজ ও সহনশীলতা গড়ে তোলার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক সময় ভিন্নমতের প্রতি অসহিষ্ণুতা দেখা যায়। এটি গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী। ছাত্র রাজনীতি তখনই ফলপ্রসূ হয়, যখন তা সহিংসতা ও ব্যক্তিস্বার্থ থেকে মুক্ত থেকে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে।

শাহরিয়ার জিহাদ, হাবিপ্রবি শিক্ষার্থী
শিক্ষাবর্ষঃ ২০২১-২০২২

ছাত্ররাজনৈতিক দলগুলো পারস্পরিক বিদ্বেষ নিয়েই ব্যস্ত

বর্তমান সময়ে আমাদের ক্যাম্পাসের ছাত্র রাজনীতি যেন এক অদ্ভুত খাপছাড়া অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এখানে রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনগুলোর উপস্থিতি থাকলেও তাদের কার্যক্রমে কাঠামো গত ধারাবাহিকতা ও কার্যকর ভূমিকার অভাব স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। প্রয়োজনের তুলনায় সংগঠনগুলোর সক্রিয়তা কম আর সেই ঘাটতির প্রভাব পড়ছে সরাসরি সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর। একটি আদর্শ ছাত্র সংগঠনের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের সমস্যা চিহ্নিত করা এবং তা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখা। তবুও পারস্পরিক বিদ্বেষ, বিরূপ মনোভাব এবং প্রতিপক্ষকে ছোট করার প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে অপরকে আক্রমণ, ব্যঙ্গ এবং বিদ্রূপ করার প্রবণতা যেন রাজনৈতিক চর্চার বিকল্প হয়ে উঠেছে। ক্যাম্পাসভিত্তিক ছাত্র সংগঠনগুলো নিজেদের স্বতন্ত্র ভূমিকা গড়ে তোলার পরিবর্তে জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক বিরোধ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে অনুকরণ করছে। ফলে শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন সমস্যা— যেমন ক্লাসরুম সংকট, শিক্ষক সংকট, ল্যাব সুবিধার অভাব কিংবা পরিবহন ব্যবস্থার দুরবস্থা এসব বিষয় প্রয়োজনীয় গুরুত্ব পাচ্ছে না। হাতে গোনা কয়েকজন শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত উদ্যোগে এসব সমস্যা নিয়ে কাজ করলেও সংগঠনগতভাবে উদ্যোগের অভাব চোখে পড়ার মতো।

আল মামুন, হাবিপ্রবি শিক্ষার্থী
শিক্ষাবর্ষঃ ২০২০-২০২১

জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদলের আবিদরাও ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে এসেছিল

ছাত্ররাজনীতি একটি গণতান্ত্রিক চর্চার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।এটি নেতৃত্ব তৈরির সুযোগ দেয়, অধিকার আদায়ের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে এবং শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও জাতীয় বিষয়ে সম্পৃক্ত করে। ক্যাম্পাসে আমি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কাছ থেকে চাই একটি সুস্থ, সহনশীল ও শিক্ষাবান্ধব ছাত্ররাজনীতি যেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে কিন্তু কোনো ধরনের জবরদস্তি বা ভয়ভীতি থাকবে না। ক্যাম্পাসে এমন একটি পরিবেশ প্রয়োজন যেখানে রাজনীতি হবে মূল্যবোধভিত্তিক, শিক্ষার্থীদের কল্যাণকেন্দ্রিক এবং একাডেমিক কার্যক্রমের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। দেশ গঠনের মূল চালিকাশক্তি শিক্ষার্থীরাই। ২৪ এর জুলাই বিপ্লবের সহায়ক নেতৃত্ব এসেছিলো ছাত্রদের হাতেই। ২৪ এর জুলাই বিপ্লবের নাহিদ,আসিফ থেকে ছাত্রদলের আবিদরা ছাত্র রাজনীতি থেকেই উঠে এসেছিল। বার বার ফ্যাসিবাদের কবর হয়েছে ছাত্রদের নেতৃত্বেই।

পারভেজ বসুনিয়া, হাবিপ্রবি শিক্ষার্থী
শিক্ষাবর্ষঃ ২০২১-২০২২

ছাত্ররাজনীতির মাধম্যে নৈতিকতার চর্চা বৃদ্ধি পাক

ক্যাম্পাস লাইফ শুধু একাডেমিক পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং এটি একজন শিক্ষার্থীর চিন্তা, চেতনা, চরিত্র ও নেতৃত্ব বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই প্রক্রিয়ায় ছাত্ররাজনীতি একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারে যদি তা ইতিবাচক ধারায় পরিচালিত হয়। কিন্তু বাস্তবতায় অনেক ক্ষেত্রেই ছাত্ররাজনীতির চিত্র প্রশ্নবিদ্ধ। ফলে প্রয়োজন মূল্যবোধভিত্তিক ছাত্ররাজনীতির পুনর্গঠন। একজন সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি মনে করি, ছাত্ররাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নেতৃত্ব তৈরি, নৈতিকতা গঠন এবং সমাজকল্যাণে নিজেকে প্রস্তুত করা। এটি কখনোই ক্ষমতার প্রতিযোগিতা বা সহিংসতার ক্ষেত্র হতে পারে না বরং এটি হওয়া উচিত আদর্শ, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের একটি প্রশিক্ষণমঞ্চ।
বর্তমান সময়ে ছাত্ররাজনীতির একটি বড় অংশ তার আদর্শিক অবস্থান থেকে বিচ্যুত। গণরুম, গেস্টরুম কিংবা র‍্যাগিংয়ের নামে কোথাও কোথাও অমানবিক জুলুম ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে যা কেবল শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে না বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়, অনাস্থা ও নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে। হাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে আমরা চাই একটি সুস্থ, গঠনমূলক ও শিক্ষাবান্ধব রাজনৈতিক পরিবেশ যেখানে ভিন্নমত থাকবে কিন্তু তা হবে যুক্তি ও সৌজন্যের ভিত্তিতে। যেখানে প্রতিযোগিতা থাকবে কিন্তু তা হবে সৃষ্টিশীল অগ্রগতির জন্য। যেখানে নেতৃত্ব মানে হবে দায়িত্ব নেওয়া, সেবা করা এবং সততা ও নৈতিকতার সাথে কাজ করা।

এটিএম সিফাতুল্লাহ, হাবিপ্রবি শিক্ষার্থী
শিক্ষাবর্ষঃ ২০২১-২০২২

ছাত্রদলের কিছু উদ্যোগ ভালো লেগেছে

ক্যাম্পাসে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন বিরাজমান । আমার দেখামতে আমাদের ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের ইদানীং অনেক ভালো ইনিশিয়েটিভ দেখেছি। যার মধ্যে বাস সংকট, গণইফতার, বৃক্ষরোপণ ও বিভিন্ন শিক্ষার্থী বান্ধব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা অনেক সুপরিচিতি লাভ করেছে। পাশাপাশি ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ এর পতনের পরে ক্যাম্পাসে প্রতিহিংসার রাজনীতিও নেই বললেই চলে। আসা করি এই ধারা অব্যাহত ও অক্ষুন্ন থাকবে। আমি প্রত্যাশা করি সব ধরনের রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন যদি এভাবে ক্যাম্পাসে উন্নয়নে একসাথে হয়ে প্রবলেম ফাইন্ড আউট করবে ও নিজেদের সাধ্যের মধ্যে আমাদের জন্য কাজ করে যাবে তাহলে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা অনেক উপকৃত হবো। ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি হোক মেধাবীদের ও যোগ্যদের।

নেওয়াজ শরীফ, হাবিপ্রবি শিক্ষার্থী
শিক্ষাবর্ষঃ ২০২১-২০২২

ছাত্র রাজনীতি দূরদর্শী নেতৃত্ব গড়ে তুলছে

ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্র সংসদের মাধ্যমে সুস্থ ধারার চর্চা শুরু হোক যেখানে পেশিশক্তি বা ট্যাগিংয়ের রাজনীতির বদলে যুক্তিনির্ভর আদর্শিক লড়াই প্রাধান্য পাবে। মূলত রাষ্ট্র সংস্কারের যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ছাত্রসমাজ রাজপথে রক্ত দিয়েছে তার প্রতিফলন হিসেবে রাজনীতির মডেল প্রবর্তন হওয়া উচিত। যা হবে জনমুখী, বৈষম্যহীন এবং যার মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে শিক্ষা ও অধিকারের সংগ্রাম।ছাত্র রাজনীতি ক্যাম্পাসে নিছক ক্ষমতা প্রদর্শনের হাতিয়ার না হয়ে বস্তুনিষ্ঠ গবেষণা ও তাত্ত্বিক চর্চার মাধ্যমে দেশপ্রেমিক ও দূরদর্শী নেতৃত্ব গড়ার কারখানায় রূপান্তর হোক। মূলত একাডেমিক উৎকর্ষ এবং রাজনীতির মধ্যে মেলবন্ধন ঘটিয়ে একটি জ্ঞানভিত্তিক ও কল্যাণকামী রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি।

মোহাম্মদ শাকিল,হাবিপ্রবি শিক্ষার্থী
শিক্ষাবর্ষঃ ২০২০-২১

ক্যাম্পাসগুলোতে সুস্থ ধারার রাজনীতি চলমান থাকুক

বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসগুলোতে শিক্ষার্থীবান্ধব ছাত্ররাজনীতি প্রত্যাশা করে। পড়াশোনা ও গবেষণা উভয় ক্ষেত্রেই ছাত্রসংগঠনগুলো যেখানে সহায়ক হবে। আমরা চাই ছাত্রসংগঠনগুলো শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো অনুধাবন করবে এবং সে অনুযায়ী কাজ করবে। বর্তমানে ছাত্রসংগঠনগুলো শিক্ষার্থীদের পালস বোঝার চেষ্টা করছে এবং সে অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করছে। এক্ষেত্রে দুটি বড় ছাত্রসংগঠন ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবির উভয়েই কাজ করছে। ক্যাম্পাসগুলোতে সুস্থ ধারার রাজনীতি চলমান থাকুক। এই প্রত্যাশাই করছি।

আসাদ ইকবাল, হাবিপ্রবি শিক্ষার্থী
শিক্ষাবর্ষঃ ২০২১-২২

ছাত্ররাজনীতি বয়ে আনুক মানুষের কল্যাণ

প্রকৃতপক্ষে ছাত্ররাজনীতি হওয়া উচিত পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার প্রতীক। ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমেই একটি দেশের মূলধারার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তৈরি হয়। দেশ গঠনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। এখান থেকেই তৈরি হয় নির্ভীকভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা ও যোগ্যতা। হাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে আমরা সুস্থ ধারার রাজনীতি চাই—যেখানে ব্যক্তি, দল ও মতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ গঠনের সহযোগিতামূলক সকল কর্মকাণ্ডে একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করা যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT