ঢাকা | রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাবেক এমপি মাজহারুল ইসলাম সুজন পিতার জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন

author
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ৩০ মে, ২০২৬ সকাল ৭:১১
ad003
পিতার জানাজায় অংশ নিতে দিনাজপুর কারাগার থেকে ৭ ঘন্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন সাবেক এমপি মাজহারুল ইসলাম সুজন। প্রয়াত দবিরুল ইসলামের বড় ছেলে সুজনের শনিবার সকালে  দিনাজপুর কারাগার থেকে ঠাকুরগাওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় উদ্দ্যেশ্য রওনা দেয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন তার পারিবারিক সুত্র । 
 
 সাত বারের নির্বাচিত ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা  আলহাজ দবিরুল ইসলাম ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বৃহস্পতিবার বিকালে  রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। মৃত্যুকালে তিনি ২ ছেলে ২ মেয়েসহ অসংখ্য ভক্ত রেখে গেলেন। 

 একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, শনিবার ঢাকা থেকে সকাল সাড়ে ১০ টায় সাবেক এমপি দবিরুল ইসলামের মরদেহ এয়ার এ্যায়ারম্বুল্যান্স যোগে  সমির উদ্দিন কলেজ মাঠে পৌছাবে। সেখান থেকে বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হবে।  বিকেল ৩টায় শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজে জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে বড় বাড়ীতে  দাফন সম্পন্ন হবে।

১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন দবিরুল ইসলাম। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন । তিনি ৮ নং বড়বাড়ী ইউনিয়নের তিনবার ইউপি চেয়ারম্যান  নির্বাচিত হয়েছিলেন।  তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) দিয়ে। ১৯৯৬ সালে সিপিবি ছেড়ে   তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগ দেন। 

ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে  সাতবার  এমপি নির্বাচিত হয়েছিল।  । ১৯৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদ এবং ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিপিবির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন। পরে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে পরপর পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি সভাপতি পদে দায়িত্বো পালন করেছেন।। দীর্ঘদিন তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা কৃষক লীগের সভাপতি দায়িত্বেও ছিলেন। তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বড় ছেলে মাজহারুল ইসলাম সুজন  ২০২৪ সালের  নির্বাচনে এমপি, মেঝো ভাই মোহাম্মদ আলী উপজেলা চেয়ারম্যান, ছোট ভাই সফিকুল ইসলাম ইউপি চেয়ারম্যান ও দুইবার উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাতিজা আলী আসলাম জুয়েল উপজেলা চেয়ারম্যান এবং আরেক ভাতিজা টানা তিনবার বড়বাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। ওই বছরের ৩ অক্টোবর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘসময় কারাবন্দি থাকার পর চলতি বছরের   তিনি জামিনে মুক্তি পান। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT