মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পুরান গ্রামে প্রথমবারের মতো আয়োজিত চারদিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী জামাই মেলা ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। পুরান গ্রাম গোল্ডস্টার ক্লাব ও এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ মেলায় প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত দর্শনার্থীরা। দ্বিতীয় দিনে মেলা প্রাঙ্গণে ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়, যা আয়োজকদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, পারিবারিক বন্ধন এবং সামাজিক সম্প্রীতিকে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়ে এ আয়োজন করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো এমন একটি ব্যতিক্রমী মেলার আয়োজন হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী, নারী-পুরুষসহ সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মেলা প্রাঙ্গণ দিনভর ছিল প্রাণবন্ত।
মেলায় বসেছে বিভিন্ন ধরনের দোকান। কসমেটিক্স, খেলনা, গৃহস্থালি সামগ্রী, মিষ্টি, মৌসুমি ফল, মাছ এবং বিভিন্ন ধরনের খাবারের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে জামাইদের জন্য মাছ, মিষ্টি ও উপহারসামগ্রী কেনার ধুম পড়ে যায়। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় এসে কেনাকাটার পাশাপাশি আনন্দঘন সময় কাটাচ্ছেন।
চারদিনব্যাপী এ মেলায় সাংস্কৃতিক ও বিনোদনমূলক নানা আয়োজন রাখা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম আকর্ষণ গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মঞ্চনাটক মায়ের আঁচল। নাটকটি রচনা করেছেন সুমন দেওয়ান শাকিব এবং পরিচালনা করেছেন শফিক সেলিম। নাটকটি মঞ্চস্থ হওয়ার খবরে সন্ধ্যার পর মঞ্চের সামনে শত শত দর্শকের সমাগম ঘটে। মা-সন্তানের ভালোবাসা, পারিবারিক মূল্যবোধ ও সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে নির্মিত নাটকটি দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে এবং ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।
মেলা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম ও সদস্য সচিব সুমন দেওয়ান শাকিব জানান, এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা থেকেই এ জামাই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। তারা বলেন, শুধু বিনোদন নয়, সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি, আত্মীয়তার বন্ধন দৃঢ় করা এবং গ্রামীণ ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্তমানে গ্রামীণ ঐতিহ্যভিত্তিক আয়োজন অনেকটাই কমে গেছে। এমন সময়ে জামাই মেলার মতো আয়োজন এলাকার মানুষের মধ্যে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। মেলাকে ঘিরে দূর-দূরান্ত থেকে আত্মীয়-স্বজনদের আগমন ঘটছে, যা পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করছে।
আগামী ১ জুন পর্যন্ত চলবে এ চারদিনব্যাপী জামাই মেলা। আয়োজকরা জানিয়েছেন, মেলার বাকি দিনগুলোতেও থাকবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাট্য পরিবেশনা এবং দর্শনার্থীদের জন্য নানা আকর্ষণীয় আয়োজন। প্রথম আয়োজনেই ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ মেলার আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান।