ঢাকা | সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে কাল্পনিক কথোপকথন

author
রাজিব আহসান চৌধুরী পাপপু

প্রকাশিত : ৩০ মে, ২০২৬ বিকেল ৫:৫৮
ad003
ছাত্র : স্যার,আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু। ঈদ মুবারক। 

শিক্ষক : ওয়ালাইকুম আসসালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ! ঈদ মুবারক। 

ছাত্র : স্যার, আজকে ৩০ মে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর শাহাদাৎ বার্ষিকী। আমরা শ্রদ্ধা নিবেদন করতে শহীদ জিয়ার মাজারে যাবো। 

শিক্ষক : খুব ভাল। তবে শহীদ জিয়া সম্পর্কে কি জানো? 

ছাত্র : শহীদ জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছেন। বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও আধুনিক বাংলাদেশের জনক বলা হয়। 

শিক্ষক : এই কথাগুলো পুঁথিগত হিসেবে সকলেই জানে। কিন্তু হৃদয় থেকে অনুধাবন করতে হলে সাধারণ মানুষকে বুঝাতে হবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কে ছিলেন? আজকের দিনে জাতি কতবড় মহামূল্যবান সম্পদ হারিয়েছেন? তা জানতে হবে। 

ছাত্র : আপনি বলুন, স্যার। আমরা জানতে চাই। 

শিক্ষক : আমরা বাঙালীদের ভারত পাকিস্তান খুবই অবহেলা করতো। যার প্রতিফলন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে ছিল। সেই ধারণা ভেঙে দিয়ে শহীদ জিয়া ১৯৬৫ সালে পাক - ভারত যুদ্ধে খেমকারানে বীরত্ব গাঁথা ভূমিকা রেখে হিলাল-ই-জুরাত পদকে ভূষিত হয়ে অবহেলিত বাঙালি সন্তান হিসেবে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন। 

ছাত্র : তাই স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সহ ভারতের দালালরা শহীদ জিয়াকে পাকিস্তানের গুপ্তচর বলে প্রপাগাণ্ডা চালাতো এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শহীদ জিয়ার ভূমিকাকে খুব ছোট আকারে দেখাতো। আরেকটা বিষয় স্যার ১৯৬৫ সালে পাক - ভারত যুদ্ধে জামায়েত ইসলামের কোন নেতার ভূমিকা ছিল। 

শিক্ষক : ভারতীয় দালালদের বিষয়ে তুমি যথার্থ বলেছো। আর জামায়েত ইসলাম ১৯৪৭ সালে দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত পাকিস্তান বিভক্তের বিরুদ্ধে ছিল।
সুতরাং সেই যুদ্ধে তাদের অংশগ্রহণ ছিলনা। তবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষে রাজাকার আলবদর আলশামস পরিচয়ে নৃশংস ভূমিকা ছিল।

ছাত্র : মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ জিয়ার ভূমিকা প্রসঙ্গে কিছু বলবেন। 

শিক্ষক : পাকিস্তানের বৈষম্যমূলক আচরণ থেকে মুক্তি পেতে বাংলার মুক্তি পাগল জনতা বিক্ষুব্ধ হলে তৎকালীন মেজর জিয়ার নেতৃত্বে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট (বাঙালি অফিসার দিয়ে গঠিত) এর প্রায় সকল অফিসারগণ একাধিক গোপনীয় সভা করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ  ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক পাকিস্তানি অফিসার লে: কর্ণেল জানজুয়াকে গ্রেফতারের মাধ্যমে মেজর জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ করে ২৬ মার্চ ও ২৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা করে সম্মুখ যুদ্ধে বাংলাদেশ স্বাধীন করতে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখেন।  অবশ্য মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহযোগিতাপূর্ণ ভূমিকা ছিল।  

ছাত্র : ওহ! এই কারণেই পাকিস্তানের দালালরা শহীদ জিয়া'কে বিশ্বাস করেননি। 

শিক্ষক : ভারতীয় তাবেদার আওয়ামী নেতৃত্বাধীন জোট ও পাকিস্তানি তাবেদার জামাত ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট শহীদ জিয়া'কে একেবারেই সহ্য করতে পারতেন না বলেই বাংলাদেশের মানুষ বুঝতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, বাংলাদেশের স্বার্থে শতভাগ দেশপ্রেমিক নেতৃত্বের নাম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। 

ছাত্র : বাংলাদেশ রক্ষায় কোন রাজনৈতিক দল ছিল না বলেই শহীদ জিয়া বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। 

শিক্ষক : যথার্থ বলেছো। ১৯৭১ পরবর্তী শেখ মুজিবুর রহমানের একদলীয় বাকশালী শাসন বাংলাদেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিলে ১৯৭৫ সালে মুজিব সরকারের আস্থাভাজন সেনা সদস্যদের হাতে স্বপরিবারে নিহত হলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিপাহি জনতার বিপ্লবে ১৯৭৫ সালে শহীদ জিয়া মুক্ত হন এবং বাংলাদেশ বাঁচাতে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। 

ছাত্র : স্যার, এমন কঠিন পরিস্থিতি জিয়াউর রহমান কিভাবে মোকাবেলা করলেন? 

শিক্ষক : জিয়াউর রহমান একজন মেধাবী সৎ নিষ্ঠাবান ও দেশপ্রেমিক অফিসার হিসেবে তিঁনি তাঁর কর্মে এর প্রতিফলন ঘটিয়েছিলেন বলেই আজও বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে আছেন। 

ছাত্র : স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে শহীদ জিয়ার যুগান্তকারী পদক্ষেপ বিষয়ে কিছু বলবেন স্যার। 

শিক্ষক : স্বাধীনতা পরবর্তী দুঃশাসনে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হয়। তখন বহির্বিশ্ব বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে আখ্যায়িত করে। ১৯৭৫ সালে কয়েকটি সেনা অভ্যূত্থানে প্রশাসনিক কাঠামো একেবারে ভেঙে পড়লে জিয়াউর রহমান দক্ষতার সহিত বহির্বিশ্বের সহিত সুসম্পর্ক স্থাপন করে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে বিদেশে খাদ্য রপ্তানির পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল করতে মধ্যপ্রাচ্য সহ উন্নত দেশগুলোতে জনশক্তি রপ্তানি করে আধুনিক বাংলাদেশের দিগন্ত উন্মোচিত করেন। 

ছাত্র : সত্যিই শহীদ জিয়ার তুলনা হয়না। যতই শুনি ততই মুগ্ধ হই, স্যার। 

শিক্ষক : স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে শিশু ছাত্র যুবক নারী ও শ্রমিকদের অতীব গুরুত্ব দিয়ে আলাদা আলাদা মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেন। বিশেষ করে শেখ মুজিবুর রহমান সরকার কর্তৃক শুধুমাত্র ৪টি পত্রিকা রেখে সকল গণমাধ্যম বন্ধ করে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার স্থলে জিয়াউর রহমান আওয়ামীলীগ জামায়েত ইসলামী সহ সকল রাজনৈতিক দলের অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। 

ছাত্র : শহীদ জিয়া'কে বহির্বিশ্ব এতটা গুরুত্ব কেন দিয়েছে, স্যার? 

শিক্ষক : ইরাক ইরান যুদ্ধ বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও বিদেশী আধিপত্য রুখতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সমন্বয়ে সার্ক প্রতিষ্ঠা করে জিয়াউর রহমান অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত হন। 

ছাত্র : স্যার, দেশী বিদেশি ষড়যন্ত্রে ৩০ মে ১৯৮১ সালে বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রাকে থামিয়ে দিতেই শহীদ জিয়া'কে হত্যা করা হয়েছে। 

শিক্ষক : যথার্থ বলেছো। সত্যিই জিয়াউর রহমান আর কিছুদিন বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ হতো সিঙ্গাপুর কিংবা জাপানের মতো উন্নত রাষ্ট্র। 

ছাত্র : স্যার, শহীদ জিয়া শাহাদাৎ বরণ করলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বাধীনতা গণতন্ত্র রক্ষায় আপোষহীন ভূমিকা রেখে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন। এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। 

শিক্ষক : শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান'কে পরিপূর্ণ অনুসরণ করতে পারলেই তারেক রহমান সফল হবেন। 

ছাত্র : আজ শহীদ জিয়ার শাহাদাৎ বার্ষিকীতে আপনার জ্ঞানগর্ভ আলোচনা কখনো ভুলবো না, স্যার। 

শিক্ষক : আমরাও হৃদয় থেকে শহীদ জিয়া'কে স্মরণ করে মহান আল্লাহ্ তায়ালার নিকট ফরিয়াদ করি : বাংলাদেশের সবচাইতে জনপ্রিয় রাষ্ট্রপতিকে আল্লাহ তায়ালা যেন জান্নাতুল ফেরদৌসের সুউচ্চ মর্যাদা দান করেন। 

ছাত্র : আমিন। 


লেখক :

রাজিব আহসান চৌধুরী পাপপু
লেখক, গবেষক ও রাজনীতিবিদ 

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT