নেত্রকোণার কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাশেমের কথিত একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই অডিওতে পুলিশি কার্যক্রম ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য শোনা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে।
শনিবার অডিওটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ৪ মিনিটের ওই রেকর্ডে একজন ব্যক্তিকে থানার পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলতে শোনা যায়, “পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস। আমরা কেউ কাউকে ঠকাব না, সবাই মিলে-মিশে থাকব।”
অডিওতে আরও শোনা যায়, বিভিন্ন অভিযোগ নিষ্পত্তি ও খারিজের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমি যে খরচ করি, সেটা তো বাড়ির টাকা না কিংবা বেতনের টাকাও না। অভিযোগ থেকে যা আসে, তা দিয়েই খরচ চলে যায়। তাই আমার কোনো রিস্ক নাই, নো টেনশন।”
রেকর্ডে আরও দাবি করা হয়, পুলিশ সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় রেখে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা একজন আরেকজনকে সেফে রাখছি। কেউ যেন কারও হক না মারে। যার যা পাওনা, সে যেন তা পায়।”
এক পর্যায়ে ‘গুপ্ত গুপ্ত’ শব্দ ব্যবহার করে মামলার আর্থিক লেনদেন ও ওসিকে না জানিয়ে কিছু কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও তোলা হয়। সংশ্লিষ্ট বক্তব্যে থানার অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করতে শোনা যায় ওই ব্যক্তিকে।
তবে ভাইরাল হওয়া অডিওর বিষয়ে কলমাকান্দা থানার ওসি মো. আবুল হাশেম বলেন, “এটি আমার বক্তব্য নয়। কীভাবে এমন অডিও ছড়িয়েছে, সেটিও আমি জানি না।”
এ বিষয়ে নেত্রকোণার পুলিশ সুপার বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। অডিওটির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৫ মে কলমাকান্দা থানার এক উপপরিদর্শকের (এসআই) ঘুষের দর-কষাকষি সংক্রান্ত কলরেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। একই ঘটনার পরদিন তৎকালীন ওসিকেও বদলি করা হয়েছিল।