ঢাকা | রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজৈরে চামড়ার বর্জ্যে শেষ মৎস্য চাষির স্বপ্ন

author
রাজৈর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ৩১ মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৪২
ad003
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার নয়াকান্দি (সুইসগেট) গ্রামে কোরবানির পশুর চামড়ার বিষাক্ত বর্জ্য ফেলে একটি পুকুরের প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক চামড়া ব্যবসায়ীর চরম দায়িত্বহীনতায় সরকারি লিজ নেওয়া ওই পুকুরের সব মাছ মরে ভেসে উঠায় সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন এক প্রান্তিক মৎস্য চাষি। শনিবার (৩০ মে) সকাল থেকে পুকুরটিতে বিপুল পরিমাণ মরা মাছ ভাসতে দেখা যায়।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নয়াকান্দি গ্রামের নুর ইসলাম শেখ সরকারিভাবে লিজ নিয়ে গত দুই বছর ধরে ওই পুকুরে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করে আসছিলেন। পবিত্র ঈদুল আজহার দিন দুপুর থেকে স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ী হারুন ফকির কোরবানির পশুর চামড়া কিনে পুকুরসংলগ্ন একটি দোকানঘরে স্তূপ করে রাখেন। পরবর্তীতে চামড়া থেকে ছাঁটাই করা অতিরিক্ত লবণাক্ত ও রাসায়নিকযুক্ত বর্জ্য সরাসরি পুকুরের পানিতে ফেলা হয়। এতে পুকুরের পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়ে এবং শনিবার সকাল থেকে রুই, কাতলা, তেলাপিয়া ও শিং ও মাগুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে উঠতে শুরু করে।

​ভুক্তভোগী মৎস্য চাষি নুর ইসলাম শেখ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আমি এই পুকুরে মাছ চাষ করেছিলাম। মাছ বিক্রি করে ঋণের টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল। চামড়ার বিষাক্ত বর্জ্য ফেলে আমার সব শেষ করে দেওয়া হয়েছে। এখন আমি কীভাবে এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠব? আমি প্রশাসনের কাছে এই অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।"

​অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চামড়া ব্যবসায়ী হারুন ফকির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, "আমার অসচেতনতার কারণে মাছ চাষির বড় ক্ষতি হয়ে গেছে। আমি তাঁর (নুর ইসলাম) সাথে কথা বলেছি। তাঁর দাবি অনুযায়ী আলোচনার মাধ্যমে এই ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া হবে।"

​রাজৈর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আমিনুল ইসলাম জানান, পুকুরে বিষাক্ত বর্জ্য ফেলে মাছ মেরে ফেলা একটি দণ্ডনীয় ফৌজদারি অপরাধ। কোনো অবস্থাতেই অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT