ঢাকা | শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পিপলস আর্মি ও প্রতিরক্ষা

পর্ব চার

author
এ ইউ দৌলা

প্রকাশিত : ১ জুন, ২০২৬ দুপুর ২:০২
ছবি-সংগৃহীত ছবি-সংগৃহীত
ad003
‘কগনিটিভ ওয়ারফেয়ার’ এমন এক মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ, যা টার্গেট দেশের জনগণের চিন্তার জগতকে বদলে দেয়। এটি মানুষকে ভেতর থেকে নিয়ন্ত্রণে রাখার এক চরম সূক্ষ্ম কৌশল। গত পর্বে আমরা দেখেছিলাম কীভাবে কোনো রকম মারণাস্ত্র আর যুদ্ধবিমান ছাড়া, শুধু মানুষের মন-মগজ আর আবেগকে কব্জা করে একটি সমৃদ্ধ দেশকে ধ্বংস করে দেওয়া যায়। আমরা দেখেছি লিবিয়ার বুকে কগনিটিভ ওয়ারফেয়ারের সেই নির্মম রূপ, যেখানে প্রোপাগান্ডার গোলকধাঁধায়  একটি জাতি নিজেকেই নিজেরা ধ্বংস করেছে। পর্বের শেষে প্রিয় মাতৃভূমির  বিরুদ্ধে কোনো পিশাচের যাদুমন্ত্রের আক্রমণ চলছে কিনা তা জানার জন্য প্রশ্নটি ছুড়ে দিয়েছিলামঃ আমাদের দেশপ্রেম, পারস্পরিক আস্থা আর মানুষের আত্মসম্মানবোধ কি কোনো অদৃশ্য কারণে দিন দিন ক্ষয়ে যাচ্ছে? কীভাবে এই অদৃশ্য যুদ্ধ থেকে জাতিকে রক্ষা করা যাবে?  

ডিফেন্স ব্যবস্থা নির্ভর করে শত্রুর আক্রমণের পদ্ধতির উপর তাই প্রথমেই বুঝতে হবে শত্রু ঠিক কীভাবে, কোন পথে জনগণের মগজে হানা দেয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে যেমন রোগ নিরাময়ের আগে জীবাণুর উৎস আর সেই জীবাণুর আক্রমণের ধরণ বুঝতে হয়, কগনিটিভ ডিফেন্স এর ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রকম। তাই এই পর্বে আমরা প্রথমে আলোচনা করব শত্রুর সম্ভাব্য আক্রমণ পদ্ধতি নিয়ে, এবং এর পরের পর্বে জানব কীভাবে জাতির অন্তরে প্রতিরক্ষা দুর্গ গড়ে তোলা যায়। 

শত্রুর সম্ভাব্য আক্রমণ পদ্ধতি
কম্পিউটারে ম্যালওয়ার বা ভাইরাস ডুকিয়ে দিয়ে যেমন দূর থেকে কোন হ্যাকার আপনার কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে তেমনি কগনিটিভ ওয়ারফেয়ারে শত্রু অত্যন্ত কৌশলে মানুষের মনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। এই কৌশলের অংশ হিসেবে তারা মানুষের চিন্তার জগতকে ধীরে ধীরে বদলে দেওয়ার অপারেশন চালায়। কাজটি তারা এমনভাবে করে যেন কেউ কিছু বুঝতেই পারে না। তারা মানুষের চিন্তার অভ্যাস বদলে দিতে গল্প, কবিতা, সংগীত অর্থাৎ সাংস্কতিক ব্যক্তিদের বেশি ব্যবহার করে। গল্প, নাটক, টিভি-সিনেমার সিরিয়ালে বহুমূল্য পোশাক, গাড়ি-বাড়ি, সাজসজ্জা এবং জৈব তাড়নার দৃশ্য ও ঘটনাগুলোর মঞ্চায়ন করে সিনেমা ও নাটকগুলোকে জনপ্রিয় করা হয়। এই জনপ্রিয়তার মাঝে অত্যন্ত কৌশলে তারা বিভেদ, অবিশ্বাস, স্বার্থপরতা, এসবের গল্পই দেখাতে থাকে। 

মানুষের ব্রেইনের একটা ধর্ম হলো, যা কিছু মানুষ বারবার দেখে কিংবা শোনে, তার আচরণ ও চিন্তা তেমনই হতে থাকে। বিভেদের গল্প বিভেদ বাড়ায়, অবিশ্বাসের আচরণ সমাজে অবিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত করে। তাদের ছিটানো বিষে মানুষেরা পরিবারের মাঝে, সমাজের মাঝে, রাষ্ট্রের মাঝে একে অপরকে সন্দেহ করার অভ্যাসে অভ্যস্ত হতে শুরু করে। এই নীল নকশা বাস্তবায়নের জন্য তারা মূলত চারটি প্রধান কৌশল বা ধাপে আক্রমণ পরিচালনা করে। 
[সাজানো সংকট ও ক্ষোভ] ──► [ছদ্মবেশী এজেন্টের মাতম] ──► [বিনোদনে বিষ] ──► [জাতীয় ঐক্যে মরণকামড়]


ছবি – এ আই

১. সংকট তৈরি ও ক্ষোভের উসকানি
কগনিটিভ ওয়ারফেয়ারের প্রথম এবং অন্যতম প্রধান অস্ত্র হলো একটি চলমান কিংবা সাজানো সংকটকে জনগণের সামনে বিশাল বিপর্যয় হিসেবে উপস্থাপন করা। একটি শান্ত মগজে সহজে বিষ ঢোকানো যায় না, তাই তাদের প্রথম লক্ষ্য থাকে টার্গেট দেশের অভ্যন্তরে এমন কিছু সামাজিক, অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক সংকট তৈরি করা অথবা চলমান কোনো সমস্যাকে উসকে দেওয়া, যাতে সাধারণ মানুষের সহনশীলতা নষ্ট হয়ে যায়। তারা ক্ষুদ্র সমস্যাগুলোকে বিশাল করে দেখাতে থাকে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওঠানামা, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, স্থানীয় কোনো অপরাধ বা রাজনৈতিক বাদানুবাদের মতো ছোট কিংবা বড় অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোকে টার্গেট করে মিডিয়ার সমস্ত শক্তি ব্যবহার করে সেগুলোকে এমনভাবে বড় করে প্রচার করতে থাকে যেন পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। 

শত্রুরা সাধারণ মানুষের মনস্তাত্ত্বিক দুর্বলতা ও ধর্মীয় অনুভূতি, অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা বা সামাজিক বৈষম্য নিয়ে খেলা করে। তারা তথ্য ও ন্যারেটিভগুলোকে এমন উসকানিমূলক ভাষায় পরিবেশন করে, যাতে মানুষের যৌক্তিক চিন্তাভাবনা লোপ পায় এবং তারা তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও ধ্বংসাত্মক মানসিকতা নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। তারা অতিরঞ্জিত সংকটগুলোকে গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় বারবার এমনভাবে উপস্থাপন করতে থাকে, যেন সাধারণ মানুষের অবচেতন মনে এই বিশ্বাসটি গেঁথে যায় যে, "দেশের আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই, এখানে সৎভাবে বেঁচে থাকা অসম্ভব, দেশটা পুরোপুরি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে"। 
যখন একটি দেশের সিংহভাগ মানুষ নিজের মাতৃভূমি সম্পর্কে এমন চরম হতাশাবাদী ও ভবিষ্যৎহীন মানসিকতা ধারণ করতে শুরু করে, তখনই শত্রুর মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের প্রথম বিজয়টি অর্জিত হয়। কারণ, যে দেশের মানুষ বিশ্বাস করে তার দেশের কোনো ভবিষ্যৎ নেই, সেই দেশ রক্ষার জন্য তারা আর কোনো অস্ত্র ধরার তাগিদ অনুভব করে না। 

২. ছদ্মবেশী এজেন্টের মাধ্যমে 'মাতম সংস্কৃতি'
কগনিটিভ ওয়ারফেয়ারের দ্বিতীয় কৌশল হলো টার্গেট দেশের অভ্যন্তরে এক ধরণের ‘মাতম সংস্কৃতি’ তৈরি করা। কোনো বহিরাগত যদি সরাসরি একটি জাতির সমালোচনা করে, তবে সেই দেশের মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই একটি প্রতিরক্ষামূলক প্রতিরোধ বা দেশপ্রেম জাগ্রত হতে পারে। তাই শত্রুরা এই কাজে সরাসরি অংশ না নিয়ে সমাজের এমন কিছু মানুষকে বেছে নেয় বা তৈরি করে, যাদের সাধারণ মানুষ সহজে বিশ্বাস করে।  এরা হতে পারে দেশের সুপরিচিত কোনো বুদ্ধিজীবী, তথাকথিত নিরপেক্ষ বিশ্লেষক, জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, কলামিস্ট, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এমনকি ধর্মগুরু। এই মানুষগুলোর গ্রহণযোগ্যতাকে পুঁজি করে শত্রুরা তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে। 

এই এজেন্টরা যখন একই সুর ধরে বিভিন্ন টকশো, সেমিনার, ফেসবুক পোস্ট, কিংবা ইউটিউব ভিডিওতে অবিরত দেশের ব্যর্থতার ফিরিস্তি গাইতে থাকে, তখন সাধারণ মানুষের অবচেতন মনে ‘কগনিটিভ বায়াস’ বা চিন্তার বিভ্রম তৈরি হয়। সাধারণ মানুষ তখন ভাবতে শুরু করে, "যেহেতু এত বড় বড় শিক্ষিত মানুষ, এত বড় ইনফ্লুয়েন্সাররা এই কথা বলছেন, তাহলে নিশ্চয়ই দেশটা আসলেই পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে"। এভাবেই তারা সাধারণ মানুষের চোখে দেশকে সম্পূর্ণ দুর্বল, ব্যর্থ ও ভঙ্গুর ভাবার আখ্যানটিকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। 

৩. বিনোদনের মাধ্যমে বিষ ঢালা
কগনিটিভ যুদ্ধের অস্ত্রাগারে সবচেয়ে সূক্ষ্ম, সুদূরপ্রসারী এবং বিপজ্জনক আক্রমণ পদ্ধতি হলো বিনোদনের মাধ্যমে বিষ ঢালা। বিনোদন মানুষকে সহজেই আকর্ষণ করে এবং বিনোদনের প্যাকেটে বিষের বিচ্ছুরণ সহজে ধরা যায় না। এমনকি বাঘা বাঘা সাইকোলজির গবেষকগণও অনেক সময় বিনোদনের ফাঁদ প্রথম দেখাতেই ধরতে পারেন না। 

একটি বাস্তব উদাহরণ দিলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। কোরবানির হাটে বেপারিরা তাদের পশুর দাম বাড়ানোর জন্য পশুগুলোকে নানাভাবে সাজিয়ে আনেন। কেউ রঙিন মালা পরান, কেউ পশুর কপালে জরজেটের নকশা বসিয়ে দেন, কেউ ঘুঙুর বা অন্য কিছু দিয়ে সাজান, কেউ তেল দিয়ে পশুর শিং, গায়ের লোম সব চকচকে সুন্দর করে হাটে নিয়ে আসেন। তো ধরুন, একটা উজ্জ্বল ধূসর রঙের মহিষ পাওয়া গেল যার মাথার উপরের লোমগুলো কিছুটা বড়। বেপারি এটিকে তেল দিয়ে চিরুনি করে দেখল এর চুলের স্টাইলটা যেন পরিচিত একটি চরিত্রের সাথে কিছুটা মিলে যায়। কেউ একজন মহিষটিকে সেই পরিচিত চরিত্রের নামে নাম দিয়ে সস্তা বিনোদন হিসেবে একটা পোস্ট দিল। মজা করা এবং মজা পাওয়ার জন্য মানুষেরা সেই পোস্টকে শেয়ার করতে লাগল, আর দিন শেষে কয়েক মিলিয়ন ভিউ হলো।  কিন্তু  ধরুন, যাকে ব্যঙ্গ করে মহিসের সাথে তার নাম যুক্ত করে সস্তা বিনোদন বানানো হল সেই চরিত্রটি যদি কোনো শক্তিশালী রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়ে থাকে আর যাদের সাথে নিজ দেশের অনেক বিষয়ে স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে তবে এর ফলাফল কি ভালো হবে? এর ফলে দুই জাতির মানুষের সম্পর্কের ক্ষতি হবে কিনা? সেই প্রেসিডেন্ট কি সুযোগ পেলেই অকল্যাণ করবে না? আপনি হয়ত ভাবছেন বিষয়টা বিনোদন, কিন্তু পুরো ব্যাপারটা কোনো মজা বা বিনোদন নয়, এটা ছিল অত্যন্ত উচ্চমানের একটি মনস্তাত্ত্বিক অপারেশন, যা দিয়ে শত্রুরা একটি দেশের মানুষের সাথে অন্য আরেকটি দেশের সহযোগিতার পথ সংকীর্ণ করতে থাকে। 

সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ট্রল, মিম এবং রিলস বা শর্ট ভিডিওকে এই যুদ্ধের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। দেশের যেকোনো জাতীয় অর্জন, ভাষা বা সংস্কৃতিকে ব্যঙ্গ করে সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম ট্রল কন্টেন্ট ইন্টারনেটে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। হাসির ছলে এই কন্টেন্টগুলো দেখতে দেখতে জনগণের অবচেতন মনে নিজ জাতির প্রতি সম্মানবোধ ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে যায়। নিজ জাতির প্রতি আবেগ আর আত্মমর্যাদা দুইই হারিয়ে যায় এইভাবে। এর অবশ্যম্ভাবী ফলাফল হলো, দেশের তরুণ সমাজ ও সাধারণ নাগরিকরা মানসিকভাবে নিজের দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তারা অবচেতনভাবেই স্বদেশের প্রতি ক্ষোভ  অনুভব করতে শুরু করে।   

৪. জাতীয় ঐক্য ও আস্থার ওপর আঘাত 
এই যুদ্ধের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো একটি দেশের জনগণের পারস্পরিক আস্থা আর ‘জাতীয় ঐক্য’কে টুকরো টুকরো করে ভেঙে দেওয়া। একটি জাতি যতক্ষণ পর্যন্ত ভেতরে এক থাকে, ততক্ষণ বাইরে থেকে কোনো প্রোপাগান্ডা দিয়ে তাদের মূল কাঠামো উপড়ে ফেলা অসম্ভব। তাই তাদের চূড়ান্ত চাল হলো, দেশের অভ্যন্তরে জাতি, উপজাতি, পাহাড়ি, নন-পাহারি, এই দল, সেই দল, এই ধর্ম সেই ধর্ম, এমন নানা নামে সামাজিক ও মানসিক বিভেদের দেয়াল তৈরি করা, যাতে দেশের মানুষ একে অপরকে শত্রু ভাবতে শুরু করে। এমন হলে মানুষ তার প্রতিবেশীকে সহমর্মিতার চোখে দেখে না, বরং শত্রু ও প্রতিপক্ষ ভাবতে শুরু করে। একটি সুন্দর সামাজিক বন্ধন পারস্পরিক সন্দেহ আর অবিশ্বাসের নরকে পরিণত হয়। 

এই কৌশলের বড় একটা অংশ জুড়ে থাকে রাষ্ট্রের মূল স্তম্ভ যেমন বিচার বিভাগ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, শিক্ষা ব্যবস্থা ও নেতৃত্ব এর ওপর থেকে জনগণের আস্থা শূন্যে নামিয়ে আনা। এমন অবস্থায় সেনাবাহিনীর কোন সদস্য ব্যক্তিগত জীবনে কোন অপরাধ করলে শত্রুর এজেন্টরা সারা দুনিয়ায় হৈচৈ ফেলে বলতে থাকে সেনাসদস্য এই অপরাধ করছে, পুলিশের কোন সদস্য কোন অপরাধ করলে তারা বলেবে পুলিশ অপরাধী, একজন বিচারক কোন ভুল করলে সমগ্র বিচার ব্যবস্থা নিয়েই তারা সমালোচনা করতে শুরু করবে। কিন্তু ভেবে দেখুন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, বা বিচার ব্যবস্থা তো অপরাধী নয় তারা কেবল প্রতিষ্ঠান যেই প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর আস্থা না থাকলে দেশও থাকে না। প্রতিষ্ঠানের মর্যাদার ক্ষতি মানে হল রাষ্ট্রের শত বছরের ক্ষতি। ব্যক্তি জীবনে যে কেউ অপরাধী হতে পারে সেটা মানুষের ব্যক্তিগত ত্রুটি কিন্তু শত্রুর এজেন্টরা কৌশলে সেই সুযোগ নিয়ে রাষ্ট্রকে দুর্বল করার যাবতীয় আয়োজনে মেতে ওঠে।  

এমন অবস্থায় নাগরিকগন রাষ্ট্রকে অবিশ্বাস করতে শুরু করে, আর জাতির আত্মসম্মানবোধ প্যারালাইজড হয়ে যায়। যখন একটি জাতির জাতীয় ঐক্য এবং আস্থার এই মনস্তাত্ত্বিক দেয়ালটি ভেঙে পড়ে, তখন এই বিশৃঙ্খলাকে দেখিয়েই বহিরাগত শক্তিগুলো "মানবাধিকার রক্ষা" বা "গণতন্ত্র উদ্ধারের" দোহাই দিয়ে খুব সহজেই সেদেশের সার্বভৌমত্ব কেড়ে নেয়ার সুযোগ পায়। (পর্ব-০৪)

কীভাবে এই অদৃশ্য গোলকধাঁধা ভেঙ্গে একটি জাতিয় মানসিক প্রতিরক্ষা দুর্গ গড়ে তোলা সম্ভব, তা জানতে চোখ রাখুন আগামী পর্বে।

(মাইন্ড-ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ের গবেষক)


সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT