ঢাকা | সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কটিয়াদীতে গরমে বাড়ছে কাঁচা তালের শাঁসের কদর

author
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২ জুন, ২০২৬ সকাল ৭:১২
ad003
কটিয়াদী বাজারে উঠতে শুরু করেছে কাঁচা তাল। আম,জাম, কাঁঠাল ও লিচুর পাশাপাশি গরমের স্বস্তিদায়ক খাবার হিসেবে কাঁচা তালের শাঁসের চাহিদাও বাড়ছে।

মিষ্টি স্বাদের মোহনীয় গন্ধে ভরা তালের শাঁস গ্রীষ্মের দুপুরে, প্রচণ্ড গরমে শরীর যখন ক্লান্ত, তখন খুব দ্রুত প্রশান্তি এনে দিতে পারে। গরমের এই দিনে সুমিষ্ট ও রসালো স্বাদের তালের শাঁস কে না চায়! তাল একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ফল। তালের শাঁসকে নারিকেলের মতোই পুষ্টিকর বলে বিবেচনা করা হয়।

হঠাৎ করে দেশে ভ্যাপসা তাপদাহ শুরু হওয়ায় তালের শাঁসে প্রশান্তি খুঁজে ফিরছেন শিশু,কিশোর থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধরাও। তবে এ বছর তাপদাহে তালের শাঁসের কদর গত কয়েক বছরের তুলনায় বেশি। তালের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় গ্রামগঞ্জ থেকে তাল সংগ্রহ করে সড়কের পাশে ও অলিগলিতে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। তাতেই মানুষ ফরমালিনমুক্ত এ ফল খেয়ে তাপদাহের মধ্যে খুঁজে পাচ্ছেন এক চিলতে প্রশান্তি।তালে রয়েছে ভিটামিন এ, বি ও সি, জিংক, পটাশিয়াম, আয়রন ও ক্যালসিয়ামসহ নানা খনিজ উপাদান। এ ছাড়া এতে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান। পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এ ফলে ৯২ দশমিক ৩ শতাংশ জলীয় অংশ, ২৯ ক্যালরি শক্তি, ৬ দশমিক ৫ গ্রাম শর্করা, ৪৩ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান রয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কটিয়াদী উপজেলার পৌর সদরে কলেজ রোড,বাসষ্ট্যান্ড,হাসপাতাল রোডসহ  বাজারে রাস্তার মোড়ে ভ্যানগাড়িতে করে তালের শাঁস বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। সেই সঙ্গে দেখা গেছে ক্রেতাদেরও উপচে পড়া ভিড়।

ভ্রাম্যমান তালের শাঁস বিক্রেতা সবুজ মিয়া বলেন, ভ্যানে করে বিভিন্ন বাজারে এই ব্যবসা করি। দৈনিক ৫০০ টাকা থেকে এক হাজার টাকারও ব্যবসা হয়।

ক্রেতারা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার তালের শাঁসের দাম অনেক বেশি। এরপরও মৌসুমি ও সুস্বাদু ফল হওয়ায় এর প্রতি আগ্রহের কমতি নেই। প্রচণ্ড তাপদাহে কটিয়াদীতে তালের শাঁসের কদর বেড়েছে। মানুষ শরীরের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে তালের শাঁস কিনে খাচ্ছেন। দাম কিছুটা বেশি হলেও সে দিকে তাকাচ্ছেন না ক্লান্ত ও পরিশ্রমী মানুষজন। শহরের অধিকাংশ শ্রমজীবী মানুষের কাছেও তালের শাঁসের কদর বেশি।

কটিয়াদী বাসষ্ট্যান্ডের সামনে তালের শাঁস বিক্রেতা আসাদ মিয়া বলেন, গ্রাম থেকে তাল কিনে ভ্যানে করে গ্রামগঞ্জে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করি। প্রতি পিস তাল প্রকারভেদে ৮ থেকে ১০ টাকায় কিনতে হয়। বিক্রি করি ১৫ থেকে ২০ টাকায়। গত ১৫ দিন ধরে বিক্রি করছি। এতে দৈনিক ৯০০ থেকে এক হাজার টাকার বিক্রি হচ্ছে। আয় যেমন, কষ্টও তেমন।

কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ শাহরিয়ার অনিক দৈনিক যায়যায় দিনকে বলেন, তালের শাঁস শরীরের জন্য খুবই উপকারী। গরমের দিনে তালের শাঁস পানি শূন্যতা দুর করে এবং ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি,এ,বিকপ্লেক্সসহ নানা ধরনের ভিটামিন রয়েছে। তালে থাকা এন্টি অক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। কচি তালের শাঁস রক্তশূন্যতা দুর করে। চোখের দৃষ্টি শক্তি ও মুখের রুচি বাড়ায়। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ আছে। তালের শাঁস একটি আঁশযুক্ত খাবার। এ শাঁস খেলে কোলন ক্যান্সারের সম্ভাবনা কম থাকে। তবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে না খেলে ডায়রিয়ার ঝুঁকিও থাকতে পারে।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT