ঝালকাঠি শহরে বৈধতার তোয়াক্কা না করেই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শত শত অটোরিকশা। বৈধ সংখ্যা মাত্র ১৩'শ ৫০ হলেও, চলাচল করছে এর চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি অবৈধ যান। এতে তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট, আর সাধারণ মানুষ পড়ছেন ভোগান্তিতে। পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঝালকাঠি শহরের ব্যস্ততম সড়কগুলোতে দিনভর দেখা যায় এমন দৃশ্য, লাইসেন্স বা প্রশিক্ষণ ছাড়াই চলছে অসংখ্য অটোরিকশা। এসব অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনের জন্য যানজট এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, ঝালকাঠি শহরে বৈধ অটোরিকশার সংখ্যা ১৩'শ ৫০টি। কিন্তু রাস্তায় চলাচল করছে প্রায় তিন হাজারের বেশি যানবাহন, যার বড় অংশই অবৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ। এর বেশিরভাগ চালকের নেই কোনো বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স কিংবা প্রশিক্ষণ।
ফলে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে রাস্তায় নামা এসব যান প্রতিদিনই বাড়িয়ে তুলছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। শহরের কালিবাড়ি সড়ক, সাধনার মোড়, ফায়ার সার্ভিস মোড়, সদর ও চাঁদকাঠি চৌমাথা সড়কসহ বিভিন্ন জায়গায় যানজট লেগেই থাকে। যানজটের কারণে এসব সড়কে পথচারী, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ও অফিসগামী মানুষ পরেন ভোগান্তিতে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের রাস্তায় অবৈধ অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো নজরদারি নেই। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, পৌরসভা ও ট্রাফিক পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কীভাবে এই বিপুল সংখ্যক অবৈধ যান রাস্তায় চলাচল করছে। তাঁদের দাবি, নিয়মিত অভিযান চালিয়ে লাইসেন্সবিহীন চালক ও অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এই নৈরাজ্য কখনোই থামবে না।
বর্তমানে অভিযান কিছুটা শিথিল থাকায় শহরে অটোরিক্সার সংখ্যাকে কিছুটা বেড়ে গেছে জানিয়ে ঝালকাঠি পৌর প্রশাসক কাওছার হোসেন বলছেন, যেসব যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নেই, সেগুলো বন্ধ করতে শিগ্রই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ অটোরিকশার দৌরাত্ম্য থামাতে মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হলেও, তা যেন শুধুই লোক দেখানো, আসল সমস্যা রয়ে যাচ্ছে বহাল তবিয়তে।