লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জে একটি জমিতে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আবেদন করেন নুর জাহান নামে এক নারী। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেছেন খোদ বাদি পক্ষই। বিবাদীরা নিষেধাজ্ঞা মানলেও বাদি পক্ষ সেটি অমান্য করে নালিশি ভূমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন। সেই সাথে ওই জমিতে গর্ত তৈরি করে মাটি কেটে নেন। এছাড়া জমিতে থাকা গাছপালাও কর্তন করেন তারা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের ২২১ নম্বর আধারমানিক মৌজার আরএস ৫০১ নম্বর খতিয়ানের ৩০৮৩ নম্বর দাগে ৩৬ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে নুর জাহান বেগম ও ফাতেমা বেগমদের বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এদিকে জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার জন্য লক্ষ্মীপুর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন নুর জাহান বেগম নামে এক নারী। এতে ফাতেমা বেগমগংদের বিবাদী করা হয়।
বিবাদীপক্ষ আদালতের নোটিশ পেয়ে ওই জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখে। কিন্তু বাদি পক্ষের লোকজনই আদালতের নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে ওই বিরোধকৃত জমিতে জোরপূর্বক ভবন নির্মাণ করেন। ভবনের পাশের জমি থেকে মাটি কেটে গর্ত তৈরি করেন এবং জমিতে থাকা বেশ কিছু কড়ই গাছ কেটে নেয়।
বিবাদী পক্ষের নারী ফাতেমা বেগম বলেন, বাদির লোকজন জোরপূর্বক বিরোধকৃত জমিতে ভবন নির্মাণ করেন। আমরা বাঁধা দিলে আমাদের উপর তাদের লোকজন হামলা করতে আসে। গত ১৯ মে রাত ২ টার দিকে ভেক্যু মেশিন দিয়ে জমিতে গর্ত তৈরি করে মাটি কেটে নিয়েছেন। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ৯৯৯-এ কল দিই। সদর থানা পুলিশ গিয়ে মাটিকাটা বন্ধ করে দেয়। এছাড়া আমরা বাড়িতে না থাকায় জমিতে থাকা কড়ইগাছ কেটে নিয়েছে তারা৷
তিনি অভিযোগ করেন, বাদি পক্ষ নিষেধাজ্ঞার আবপদেন করে তারাই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখলের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। যেহেতু আদালতে মামলা চলমান রয়েছে, তাই আদালতই জমির মালিকানার সিদ্ধান্ত দিবে। তাই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আমরা আদালতের দারস্থ হয়েছি।
বাদি পক্ষের নারী হোসেনেয়ারা জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বাবা মনির হোসেন জমিগুলো ক্রয় করেছেন। সে সূত্রে আমরা মালিক। এটা এলাকার সবাই জানে। জমির একপাশে ভবন করতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন বাঁধা দেয়। এছাড়া ফসলি জমিতে ফসল চাষাবাদ করে নিয়ে যায় বিবাদী পক্ষের ফাতেমা বেগম। তাই স্থানীয় লোকজনের পরামর্শে ফসলি জমির মাটি কেটে চারপাশ ভরাট করেছি। এতে আদালতের নির্দেশ অমান্য হয়নি।