টাঙ্গাইলের গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার পাশাপাশি দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে টানা চার ঘণ্টার সংঘর্ষে একজন নিহত ও অপর ২০জন আহত হয়েছে। এ সময়
১১টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, গরু-বাছুর, গোলার ধান ও গৃহস্থালী সামগ্রী লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার(৪ জুন) দিবাগত রাত ৮টায় সংঘটিত ওই ঘটনায় গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের নলিন বাজারে হামলা চালিয়ে শতাধিক দোকানপাট ভাংচুর ও লুট করা হয়। সংঘর্ষে নিহত কালাম তালুকদার(৬৫) ভূঞাপুরের অর্জুনা ইউনিয়নের জগৎপুরা গ্রামের হাবিবুর রহমান তালুকদারের ছেলে।
ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, হাসপাতালে পৌঁছার আগেই কালাম তালুকদার মারা গেছেন।
গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামছুল আলম জানান, মাস খানেক আগে গোপালপুর উপজেলার গুলিপেচা এবং ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের জগৎপুরা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দোকানে বাকি চাওয়াকে কেন্দ্র করে ওই দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে সংঘর্ষে ১০-১২জন আহত হয়। এতে অর্জুনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নিয়ামত আলী খান আহত হন। পরে জগৎপুরাবাসিরা গুলিপেচা গ্রামে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালায়।
এর প্রতিশোধ হিসাবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর জগৎপুরা গ্রামের কয়েকশ’ মানুষ লাঠিসোটা ও রামদা নিয়ে গুলিপেচা গ্রামে হামলা চালায়। তারা ১১টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ
করে। গরু-বাছুরসহ সব কিছু লুট করে নিয়ে যায়। হামলায় নারী শিশুসহ অনেকেই আহত হয়। এর মধ্যে হেমনগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের অবস্থা
গুরুতর।
অপরদিকে জগৎপুরা গ্রামের বাসিন্দা এবং নলিন বাজারের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, এদিন রাত ৮টার পর হেমনগর ইউনিয়নের শাখারিয়া গ্রামের কয়েকশ’ মানুষ নলিন বাজারে হামলা চালায়। তারা বেছে বেছে জগৎপুরা গ্রামের ব্যবসায়ীদের দোকানপাট ভাংচুর ও লুট করে। এতে প্রায় তিন কোটি টাকার পণ্য লুট হয়।
এদিন গভীর রাত পর্যন্ত উভয় পক্ষ রণপ্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে হামলার জন্য অপেক্ষা করছে এমন অভিযোগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিরসনের জন্য পুলিশ কাজ করছে। ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. সাব্বির রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুই পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে।
উভয় পক্ষের রণ প্রস্তুতির মধ্যে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। অগ্নিনির্বাপক দল আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আদিবুল ইসলাম ও ফৌজিয়া হাবিব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।