ঢাকা | শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এক বছরে ৫২ হাজার ৩৭৫টি বৃক্ষনিধন

জাতীয় বন ও বৃক্ষনিধন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের

author
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত : ৫ জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:২৯
ad003
জাতীয় বন ও বৃক্ষনিধন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক হারে গাছ কাটা ও বন উজাড়ের ঘটনা ঘটছে। উন্নয়ন প্রকল্প, নগরায়ণ, শিল্পায়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, কৃষিজমির সম্প্রসারণ এবং কাঠ ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে বনভূমি ও বৃক্ষআচ্ছাদনের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। ফলে দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

বৃহস্পতিবার পরিবেশ অধিদপ্তর মিলনায়তনে ‘গাছনিধন মিডিয়া মনিটরিং ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন’ প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তারা। রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টার (আরডিআরসি), গ্রীন ভয়েস, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন, ব্রাইটার্স এবং ন্যাশনাল ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আরডিআরসি’র কোষাধ্যক্ষ আমিনুর রসুল বাবুল। 

গবেষণা প্রবন্ধে আমিনুর রসুল বলেন, ২০২৫ সালের মে থেকে ২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এক বছরে দেশে ৫২ হাজার ৩৭৫টি বৃক্ষনিধনের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। যা ২০২৪-২৫ বছরের তুলনায় ৭১.২ শতাংশ কম। এরমধ্যে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ২৩ হাজার ৪১টি ও কক্সবাজারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১ হাজার বৃক্ষনিধনের তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি ৯দফা সুপারিশ তুলে ধরে বলেন, বন আইন ও নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। জাতীয় বন ও বৃক্ষনিধন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। টেকসই কৃষি ও কৃষিবনায়ন সম্প্রসারণ করতে হবে। নগর পরিকল্পনায় সবুজ অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পরিবেশ শিক্ষা জোরদার করতে হবে। বনের উপর আদিবাসী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। বিকল্প জীবিকা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং পরিবেশ সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান বলেন, বৃক্ষনিধন ও বন উজাড়ের কারণে মাটিক্ষয়, ভূমিধস, জীববৈচিত্র্যের ধ্বংস, প্রাকৃতিক আবাসস্থল নষ্ট এবং পরিবেশগত অবক্ষয় ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। একইসঙ্গে বনভূমি সংকুচিত হওয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। তবে আশার কথা হচ্ছে, এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ছে এবং এক বছরে বৃক্ষনিধন ৭১ শতাংশ কমেছে। সরকার বৃক্ষনিধন বন্ধের পাশাপাশি ২৫ কোটি বৃক্ষরোপনের উদ্যোগ নিয়েছে।

বৃক্ষনিধন বন্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হক। তিনি বলেন, বৃক্ষনিধন বন্ধসহ পরিবেশ সুরক্ষায় আইন ও নীতিমালা থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না। বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন কার্যকর করা গেলে বৃক্ষনিধন অনেকটাই কমে আসবে। পরিবেশগত অপরাধ দমনে ইউনিয়ন পর্যায়ে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বৃক্ষরোপনের পাশাপাশি তা সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান মোস্তফা কামাল মজুমদার। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে, এটা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। তবে, কোথায় কোন গাছ লাগাতে হবে, সেটাও বিবেচনায় নিতে হবে। পরিবেশ আদালত আইনসহ সকল আইন ও নীতিমালা কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি।

এই আলোচনায় আরো অংশ নেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের সমন্বয়ক মিহির বিশ্বাস, গ্রিন সেভারসের প্রতিষ্ঠাতা এহসান রনি, কাপের নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার রেবেকা সানইয়াত, জলবায়ু গবেষক আসিফ মাহমুদ চৌধুরী, ব্রাইটার্সের প্রতিষ্ঠাতা সাইদুর রহমান সিয়াম, আরডিআরসি’র গবেষক শুভাষীস দাস শুভ, ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের শাকিল আহমেদ, গ্রীন ভয়েসের সহ-সমন্বয়ক ফাহমিদা নাজনীন প্রমূখ।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT