গত কয়দিনের তীব্র রোদ আর গরমে নীলফামারীর সৈয়দপুরের সাধারন মানুষজন তৃষ্ণা নিবারণে ছুটে যাচ্ছেন ফুটপাতের সরবতের দোকানগুলোতে। গত তিন/চারদিন আগেই দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করছিল সৈয়দপুরে। যারফলে মানুষজন বিশেষ করে নিম্ন আয়ের ও দিনমজুর মানুষরা তাদের কর্মস্থলে তীব্র রোদ আর গরমে কাজ-কর্মও করতে পারছিলেন না।
তাছাড়া, উষ্ণকাল আসলেই নীলফামারীর সৈয়দপুরের বিভিন্ন জায়গায় চোখে পড়ে বিভিন্ন শরবতের দোকান। বরফ, বেল,দই, বিট লবণ, লেবু দেখে স্বাস্থ্যকর শরবত মনে করে সচেতন মানুষও তৃষ্ণা নিবারণে ছুটে যান ফুটপাতের এসব দোকানে। কিন্তু, কেউ জানে যে, শরবতের এসব উপাদানের সাথে-সাথে এসব শরবতে মিশানো হচ্ছে ঘন-চিনি ও বেলের শরবতকে আরো গাড়ো করার জন্য মেশানো হচ্ছে রং। এবারো গরম আসতে না আসতেই সরেজমিনে গিয়ে উঠে এসেছে এমন চিত্র।
গরমকালে এক গ্লাস ঠান্ডা পানি পানে কিছুটা স্বস্তি আনে মানুষের জীবনে তাই, সৈয়দপুর শহরের ছোট রেলঘুন্টি, বড় রেলঘুন্টি, রেললাইনের পাশে, টার্মিনাল সহ শহরের সব ব্যস্ততম এলাকায় এসব শরবত দেদরাছে বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছোট রেল ঘুন্টিতে শরবত বানাতে ব্যস্ত ফুটপাতের দোকানদার সব। একজন বেল কাটছেন আরেকজন বানাচ্ছেন, আবার সরবতের মগ বা গ্লাসকে নিচে নিয়ে ঠিক বেলের মতই মেশানো হচ্ছে এক প্রকার রং যেটা এই বেলের শরবতকে করছে আরো গাড়ো অথচ, এটা স্বাস্থ্যের জন্য কতই না ক্ষতিকর ? তা’ দোকানদাররা বুঝলেও গ্রাহককে বুঝতে দিচ্ছেন না।
বিক্রেতারা মোহনীয় কণ্ঠে ক্রেতা সংগ্রহে ডাকতে থাকেন আবার সামনে আসলেই বাড়িয়ে দিচ্ছেন ঠান্ডা শরবত। তীব্র রোদে তৃষ্ণা নিবারণে কোনো বাচ-বিচার না করে আকর্ষণীয় দেখতে হওয়ায় শহরবাসী ছুটে যাচ্ছেন এসব শরবতের দোকানে।
গত কয়েকদিন থেকেই তীব্র রোদ আর গরমের পর গত একদিন থেকে সৈয়দপুরে গরম কিছুটা কম হলেও ঘিম গরম ঠিকই প্রভাব বিস্তার করে আছে গোটা সৈয়দপুরে। সকালের দিকে আকাশ মেঘলা থাকলেও দিন পোহাতেই ঘড়ির কাটার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ঘিমসামি গরম।
ছোট রেল ঘুন্টির বিক্রেতার কাছে বেলের শরবতে সেই রং ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইতেই দ্বিধাহীনভাবে বলেন শরবতে হালকা রং আর ঘনচিনি ব্যবহার হবেই। এভাবে বলার কারণ হলো এরা রং এর কুফল সম্পর্কে জানে না। যারা জানে তারা অবশ্য মুখ খোলেন না। অনেক ক্রেতাও জানে না এই রং আর ঘনচিনি ব্যবহারের ফলে কী সমস্যা হয় ?
সৈয়দপুর শহরে দেদারছে বিক্রি হওয়া এসব ভেজাল শরবত পানে এক সমীক্ষায় দেখা গেছে ৬১ শতাংশ মানুষ হৃদরোগ, কিডনি সমস্যা ও মস্তিস্ক জটিলতায় ভুগেন।
ফুটপাথের এসব শরবতের বিষয়ে জানতে চাইলে তা’ জীবনের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করে সৈয়দপুরের বিশিষ্ট একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এসব রং, ঘন-চিনি ও অস্বাস্থ্যকর পানি মিশ্রণে তৈরি এসব শরবত খাওয়ার ফলে ডায়রিয়া, কলেরা, জন্ডিস, হেপাটাইটিস এমনকি ভবিষ্যতে কিডনির সমস্যাসহ বড় ধরনের রোগ হতে পারে। সে কারণে গরমে সাময়িক কষ্ট হলেও ফুটপাথের এসব পানীয় পান করা থেকে সবার বিরত থাকা উচিত বলে জানান তিনি। বিশেষ করে ভেজাল এসব শরবত শিশুদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। শরীরের গঠন থেকে শুরু করে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন ভেজাল মুক্ত খাবার। না’ হলে ভবিষ্যত প্রজন্ম হবে মেধাশূন্য।
এদিকে গরমের তীব্রতায় প্রতিদিন মৌসুমী রোগে আক্রান্ত হয়ে শত-শত মানুষ চিকিৎসা নিতে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভিড় করছেন। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক রোগী বেশি।