‘গ্রেটেস্ট শো অন দি আর্থ’খ্যাত ফুটবল ওয়ার্ল্ড কাপের মহারণ শুরু হতে বাকি আর মাত্র চার দিন। ফুটবল ওয়ার্ল্ড কাপের ইতিহাসের পাতায় ‘৬’ সংখ্যাটি নিয়ে এক অদ্ভুত কাকতালীয় রেকর্ড রয়েছে।
১৯৭৮ সালের আর্জেন্টিনা ওয়ার্ল্ড কাপ থেকে শুরু করে ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স ওয়ার্ল্ড কাপ পর্যন্ত টানা ছয়টি ওয়ার্ল্ড কাপে গোল্ডেন বুট জয়ী সর্বোচ্চ গোলদাতারা ঠিক ছয়টি করে গোল নিয়ে তাদের টুর্নামেন্ট শেষ করেছিলেন। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে চলা এই ‘ছয় গোলের বৃত্ত’ ভাঙতে বিশ্বসেরা স্ট্রাইকারদের ২০০২ ওয়ার্ল্ড কাপ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল।
১৯৭৮ ওয়ার্ল্ড কাপে আর্জেন্টিনাকে প্রথমবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করার পথে মারিও কেম্পেস করেছিলেন ৬টি গোল। এরপর ১৯৮২ ওয়ার্ল্ড কাপে ইটালির পাওলো রসি, ১৯৮৬ ওয়ার্ল্ড কাপে ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার গ্যারি লিনেকার, ১৯৯০ ওয়ার্ল্ড কাপে ইটালির তোতো শিলাচি, ১৯৯৪ ওয়ার্ল্ড কাপে রাশিয়ার ওলেগ সালেঙ্কো এবং বুলগেরিয়ার রিস্টো স্টোইচকভ (যৌথভাবে) আর ১৯৯৮ ওয়ার্ল্ড কাপে ক্রোয়েশিয়ার ডাভোর সুকার করেন ৬টি করে গোল।
দীর্ঘ দুই দশক ধরে চলা এই ছয়ের ধারাবাহিকতা অবশেষে ভেঙে যায় ২০০২ সালের কোরিয়া-জাপান ওয়ার্ল্ড কাপে। সেবার ব্রাজিলের ‘দি ফেনোমেনন’ রোনালদো নাজারিও একাই ৮টি গোল করে এই বৃত্ত ভাঙেন এবং দলকে চ্যাম্পিয়ন করেন।
কোনো ওয়ার্ল্ড কাপে দলের অন্য কেউ গোল করতে পারছেন না, অথচ একাই একের পর এক গোল করে দলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন, এমন কীর্তি ফুটবল বিশ্বে বিরল। ওয়ার্ল্ড কাপে নিজ দেশের হয়ে টানা ছয়টি গোল করার এই অনন্য রেকর্ডটি যৌথভাবে চার জন ফুটবলারের দখলে রয়েছে।
১৯৬৬ সালের ওয়ার্ল্ড কাপে পর্টুগালের হয়ে টানা ছয়টি গোল করেছিলেন পর্টুগালের ইউসেবিও, ১৯৮২ ওয়ার্ল্ড কাপে ইটালির পাওলো রসি, ১৯৯৪ ওয়ার্ল্ড কাপে রাশিয়ার ওলেগ সালেঙ্কো টানা ৬টি করে গোল করেন। এই তালিকায় একমাত্র বর্তমান ফুটবলার হিসেবে ২০১৪ এবং ২০২২ ওয়ার্ল্ড কাপ মিলিয়ে ইকুয়েডরের হয়ে ব্যাক-টু-ব্যাক টানা ছয়টি গোল করার কীর্তি গড়েন এনার ভ্যালেন্সিয়া।