নেত্রকোণার কলমাকান্দায় মাদক মামলায় অভিযুক্ত এক কিশোরের পক্ষ নিয়ে পুলিশের তথ্যদাতাকে গালাগালি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে দলীয় পদ হারিয়েছেন খারনৈ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. গেদু মিয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও রেকর্ডকে কেন্দ্র করে এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কলমাকান্দা উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক জিহাদ খান মিতুল। এর আগে শনিবার রাতে তার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গেদু মিয়াকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং নৈতিক স্খলনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম. এ. খায়ের এবং সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান ভূঁইয়া যৌথভাবে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মে উপজেলার উত্তর রানীগাঁও গ্রামের মাওলানা শফিকুল ইসলাম তার বাড়ির পেছনে সন্দেহজনক মাদকদ্রব্যের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিদেশি মদসহ দুই কিশোরকে আটক করে। এ সময় আরও এক কিশোর পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, পালিয়ে যাওয়া ওই কিশোর গেদু মিয়ার ছেলে।
এ ঘটনায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) নোমান বাদী হয়ে তিন কিশোরকে আসামি করে একটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগ রয়েছে, মামলার পর গেদু মিয়া তার ছেলের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার কারণে মাওলানা শফিকুল ইসলামকে ফোন করে অশালীন ভাষায় গালাগালি করেন। শুধু তাই নয়, শফিকুল ইসলামের মা ও পরিবারের সদস্যদের নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয় এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে ধারাবাহিকভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং পরিবারের সদস্যদের সম্মানহানির হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
এদিকে গালাগালি ও হুমকির কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ভাইরাল হওয়া অডিওতে গেদু মিয়া এবং তার ছেলেকে মাওলানা শফিকুল ইসলামের উদ্দেশে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিতে শোনা যায় বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।
অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগে বিএনপির স্থানীয় নেতৃত্ব গেদু মিয়ার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় তাকে খারনৈ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
তবে এ বিষয়ে গেদু মিয়ার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।