চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৩৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সৈয়দ আশরাফ, বাঁশখালীর সাইফুদ্দিন শিকদার পারভেজ এবং ফটিকছড়ি উপজেলার আশরাফুল ইসলাম।
শনিবার (৬ জুন) রাতে ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) ধনতোষ চাকমা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন । মামলায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পাঁচলাইশ থানার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মো. হামিদ (২৭), মো. সোহেল (৪৫), মো. হাসান (২৮), আনোয়ারা উপজেলার চকরিয়া পৌরসভার মো. রাফি (২৪), মো. রাসেল (২৮)সহ মোট ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৩৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সলিমপুর এলাকায় ডিসি পার্কের সামনে বন্দরগামী সড়কে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল করেন। এ সময় তারা সহিংসতা, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার উদ্দেশ্যে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, আসামিরা রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর, বিদ্বেষমূলক ও কুরুচিপূর্ণ স্লোগান প্রদান এবং জনমনে ভয়ভীতি ও ঘৃণা সৃষ্টির লক্ষ্যে ঘটনাস্থলে ককটেল বিস্ফোরণ ও ফাঁকা গুলি ছোড়েন। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি কার্তুজের খোসা, ১৫টি কাঠের লাঠি এবং বিস্ফোরিত ককটেলের আলামত উদ্ধার করা হয়।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, “সলিমপুর এলাকায় ডিসি পার্কের সামনে রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং নাশকতার উদ্দেশ্যে ঝটিকা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”