ঈদুল আজহার ছুটি শেষে বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দেখেন, শ্রেণিকক্ষের ছাদের বড় একটি অংশ ধসে পড়েছে। ফলে জীবনের ঝুঁকি এড়াতে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করতে হচ্ছে।
সোমবার (৮ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে উপজেলার ১২৭ নম্বর দক্ষিণ মাইজহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। বিদ্যালয়ের মাঠে দ্বিতীয় শিফটের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্লাস নিচ্ছিলেন শিক্ষকরা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালে নির্মিত একতলা ভবনটিই বিদ্যালয়ের একমাত্র অবকাঠামো। বর্তমানে এখানে ১০৯ জন শিক্ষার্থী ও ৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছিল। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ঈদের ছুটি শেষে বিদ্যালয় খুললে শিক্ষকরা দেখতে পান অফিস কক্ষসহ কয়েকটি শ্রেণিকক্ষের ছাদের বড় অংশ ধসে পড়েছে। এতে বিদ্যালয়জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রোববার অনেক অভিভাবক বিদ্যালয়ে এসে সন্তানদের বাড়িতে নিয়ে যান। কেউ কেউ ঝুঁকির কারণে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানোও বন্ধ করে দিয়েছেন।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া বলে, “আমার এই স্কুলে পড়তে ভয় লাগে। সবসময় ভবন নিয়ে আতঙ্কে থাকি। এখন ছাদ ধসে পড়েছে, তাই পরিবারও আর ভবনের ভেতরে ক্লাস করতে দিতে চায় না।”
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ জানায়, “রোদ-বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করতে অনেক কষ্ট হয়।”
স্থানীয়দের মতে, বিদ্যালয় চলাকালে যদি ছাদ ধসের ঘটনা ঘটত, তাহলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল। ছুটির সময় ঘটনাটি ঘটায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে বিদ্যালয়টি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরাইয়া বিলকিস বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চলছিল। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে মৌখিকভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছেন। আপাতত মাঠে পাঠদান চলছে। দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে।”
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তাসলিমা বেগম লিপি বলেন, “ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় সেখানে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রাখতে অস্থায়ী টিনশেড বা অন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”
পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলীকে পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন ভবনের বরাদ্দের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।”
এদিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত একটি নতুন ও নিরাপদ বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হতে পারে।