দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে এলেই নামসর্বস্ব কিছু সাংবাদিককে দিয়ে অখ্যাত ও নিবন্ধনহীন অনলাইন পোর্টালে প্রতিবাদধর্মী সংবাদ প্রকাশ করানোর অভিযোগ উঠেছে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কামাল হোসেন খানের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি এবং ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্র, সেবাগ্রহীতা এবং বিভিন্ন সময়ে দায়ের হওয়া অভিযোগপত্র ঘেঁটে জানা গেছে, ভূমি সংক্রান্ত সেবা নিতে গিয়ে অনেকেই নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, মিথ্যা তথ্য বা প্রস্তাবনার ভিত্তিতে প্রকৃত প্রাপ্যের চেয়ে বেশি জমি খারিজ করে দেওয়ার পাশাপাশি টাকার বিনিময়ে অর্পিত (শত্রু) সম্পত্তি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে খারিজে সহযোগিতার মতো গুরুতর অনিয়মেও জড়িত ছিলেন তিনি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এসব অনিয়ম নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা বা সংবাদ প্রকাশিত হলেই তিনি কিছু পরিচয়ধারী সাংবাদিককে ব্যবহার করে নিজের পক্ষে প্রতিবাদ সংবাদ প্রকাশ করান। এতে প্রকৃত অভিযোগগুলো আড়াল করার চেষ্টা করা হয় বলে দাবি তাদের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কামাল হোসেন খানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগে বারহাট্টা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস, নেত্রকোনা সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং মোহনগঞ্জ উপজেলার সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালনকালেও একই ধরনের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২১-২২ সালে বারহাট্টার রায়পুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত থাকাকালে টাকার বিনিময়ে অর্পিত সম্পত্তি খারিজে সহযোগিতা ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে একাধিক ব্যক্তি জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তাকে নেত্রকোনা সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বদলি করা হয়।
সেখানেও অভিযোগের রেশ কাটেনি। পরে ২০২৪ সালে তাকে মোহনগঞ্জ উপজেলার সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বদলি করা হয়। ওই সময় অতিরিক্ত খাজনা আদায়, ঘুষ গ্রহণ, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি এবং মিথ্যা প্রস্তাব পাঠিয়ে অতিরিক্ত জমি খারিজ করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগগুলোর তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর গত বছরের অক্টোবরে তাকে কলমাকান্দার পোগলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বদলি করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
তবে নতুন কর্মস্থলেও অভিযোগ থামেনি। সম্প্রতি পোগলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কামাল হোসেন খান তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে, সেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি সরকারি বিধি-বিধান মেনেই দায়িত্ব পালন করছি।”
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, একাধিক কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে ধারাবাহিকভাবে একই ধরনের অভিযোগ ওঠার পরও কেন বারবার শুধু বদলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে ব্যবস্থা—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।