টেকনাফে উখিয়া ৬৪ বিজিবি’র অভিযানে ৩০ হাজার ইয়াবাসহ ১ মাদক কারবারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। গ্রেফতারকৃত আসামী কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানাধীন কেরামতলী চাকমার কুল (বটতলা) এফডিএমএন সদস্য মোঃ মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে আবু সৈয়দ (২০)।
গত সোমবার (০৮ জুন) উখিয়া ব্যাটালিয়ন ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আনুমানিক ৭.৫০ টায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উখিয়া ব্যাটালিয়ন ৬৪ বিজিবির অধীনস্থ হোয়াইক্যং বিওপি’র বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার বিআরএম-১৮ এবং বিওপি হতে আনুমানিক ১.৫ কিঃ মিঃ উত্তর পূর্ব দিকে ক্যারেঙ্গাঘোনা খালের পাশে অবস্থান করে। এ সময় মায়ানমার হতে ০১ জন নাগরিক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখে বিজিবি টহল দল তাকে চ্যালেঞ্জ করলে দৌঁড়ে পালানোর সময় তাকে আটক করা হয়।
আটককৃত ব্যক্তি হলেন আবু সৈয়দ (২০), পিতা-মোহাম্মদ হোসেন, মাতা-হামিনা খাতুন, এফডিএমএন ক্যাম্প কেরামতলী চাকমার কুল (বটতলা), ব্লক-২১, বি-৩, থানা-উখিয়া।
এ সময় তার কাছ থেকে ৩০,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। আটককৃত ব্যক্তিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে উক্ত ইয়াবা মায়ানমার সীমান্ত হতে কিনে অধিক দামে বিক্রয়ের উদ্দেশ্য বহন করছিল বলে স্বীকার করে। তার থেকে ইয়াবা ছাড়া আর কোন অবৈধ মালামাল পাওয়া যায়নি।
একইদিন আরেকটি অভিযানে শীলখালী চেকপোস্টে সিএনজি যোগে ইয়াবা পাচারকালে উখিয়া ৬৪ বিজিবি’র হাতে ২৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গ্রেফতারকৃত আসামী মাদারীপুর জেলার সদর থানাধীন মাদরা গ্রামের বাসিন্দা রশিদ খলিফার ছেলে মোঃ রাকিব (২৫)।
সোমবার উখিয়া ৬৪ বিজিবি’র অধিনায়ক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত ০৮ জুন ২০২৬ ইংরেজি আনুমানিক ৭.২০ টায় টেকনাফ থেকে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী সিএনজি শীলখালী চেকপোস্টের নিকট আসলে কর্তব্যরত বিজিবি সদস্যগণ কর্তৃক তল্লাশী কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তল্লাশীকালে সিএনজির পিছনের সিটে বসা যাত্রীর পকেট থেকে এ ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়।
এ সময় সিএনজির যাত্রী মোঃ রাকিব (২৫), পিতা-রশিদ খলিফা, গ্রাম-মাদরা, পোস্ট-মাদরা বাজার, থানা: মাদারীপুর ও জেলা-মাদারীপুর তাকে আটক করা হয়।
আসামীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, উল্লেখিত ইয়াবা টেকনাফ হতে সংগ্রহ করে বেশি দামে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে কক্সবাজার নিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় ইয়াবা ছাড়া আর কোন অবৈধ মালামাল পাওয়া যায়নি।
উখিয়া বিজিবি’র অধিনায়ক আরও জানান, মাদক সরবরাহকারী এবং জড়িত চোরাকারবারীদেরকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। উদ্ধার করা ইয়াবা ট্যাবলেট ও গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে টেকনাফ মডেল থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়ন বিজিবি’র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ জহিরুল ইসলাম, জি তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারায় নয়, চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধেও দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।
উল্লেখ্য, কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীনে দায়িত্ব পালনকারী উখিয়া ব্যাটালিয়ন ৬৪ বিজিবি দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত নিরাপত্তা বজায় রাখা, মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কার্যক্রম দমনে সাফল্য অর্জন করে আসছে।