ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘৬ লাখ টাকা যৌতুকের চাপেই মেয়ের মৃত্যু’— স্বামীর বিচারের দাবিতে মোহনগঞ্জে মানববন্ধন

author
নেত্রকোণা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ৯ জুন, ২০২৬ সকাল ১০:৪৬
ad003
নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে শাহীদা আক্তার (২১) নামে এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বিচার দাবি করেছেন তার পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী। এ দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে মোহনগঞ্জ পৌরশহরের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে শাহীদার বাবা শহীদ মিয়া, মা ময়না আক্তারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিপুলসংখ্যক এলাকাবাসী অংশ নেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য শাহীদার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। সেই নির্যাতনের কারণেই তিনি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার মাঘান-সিয়াধার ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহীদার প্রায় এক বছর আগে এক প্রবাসীর সঙ্গে বিয়ে হয়। স্বামী বিদেশে অবস্থান করায় তিনি বাবার বাড়িতেই থাকতেন। পরে পাশ্ববর্তী বাখরপুর গ্রামের মোনাইদ হোসেনের বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ থেকে মুক্তি পেতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মোনাইদ শাহীদাকে বিয়ে করেন বলে দাবি পরিবারের। এ সময় শাহীদা তার আগের স্বামীকে তালাক দেন।

স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই মোনাইদ হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা শাহীদার কাছে ৬ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে সেই অর্থ দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় তাকে নিয়মিত মারধর, গালাগাল এবং মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

অভিযোগ রয়েছে, নির্যাতনের মাত্রা অসহনীয় হয়ে উঠলে গত ২৯ মার্চ বাবার বাড়িতে গিয়ে কীটনাশক পান করেন শাহীদা। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেদিন রাতেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় গত ১ এপ্রিল শাহীদার বাবা শহীদ মিয়া বাদী হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় স্বামী মোনাইদ হোসেনকে। এছাড়া শ্বশুর মো. শফিকুল ইসলাম, ভাসুর জুনাইদ হোসেন, ননদ চম্পা আক্তারসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মামলার পর গত ৯ এপ্রিল মোনাইদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রধান আসামি জামিনে মুক্ত হওয়ার পর ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তারা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং শাহীদার মৃত্যুর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, ‘মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের মাধ্যমে চলবে।’



সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT