ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইনের দ্বারস্থ হলেন ‘লাল শাড়ি পরিয়া কন্যা’ গানের শিল্পী সোহাগ

author
কালচারাল রিপোর্ট

প্রকাশিত : ৯ জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪
ad003
নব্বই দশকের পর দেশের সংগীতাঙ্গনে ভাটিয়ালি ধারার গানকে জনপ্রিয় করে তোলা শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম মো. শরীফুজ্জামান সোহাগ। ‘লাল শাড়ি পরিয়া কন্যা’ গানটির মাধ্যমে গায়ক হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন তিনি। ভাটিয়ালি ব্যান্ডের এই প্রতিষ্ঠাতা শিল্পী দেশের যুবসমাজের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তার কণ্ঠে পরিবেশিত একাধিক গান দেশজুড়ে শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। সেই জনপ্রিয় শিল্পী এবার তার গানের রয়্যালিটি আত্মসাৎ, চুক্তিভঙ্গ, কপিরাইট আইন লঙ্ঘন ও প্রতারণার অভিযোগে ঢাকার এক ডিজিটাল মিউজিক ডিস্ট্রিবিউটরের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন। 

জানা গেছে, সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শিল্পী মো. শরীফুজ্জামান সোহাগের পক্ষে সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম বিপ্লব হোসেন গত ৮ জুন রেজিস্ট্রি ডাকযোগে মো. আহসানুল হাবিব অনিক বরাবর লিগ্যাল নোটিশটি পাঠান। 

লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালের ৫ নভেম্বর শিল্পী শরীফুজ্জামান সোহাগের সঙ্গে ডিজিটাল মিউজিক ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন আহসানুল হাবিব অনিক। সে সময় তিনি শিল্পীর মৌলিক গান আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্লাটফর্মে প্রকাশ, বিপণন ও মনিটাইজেশনের প্রস্তাব দেন এবং অর্জিত আয়ের ৮০ শতাংশ শিল্পীকে রয়্যালিটি হিসেবে প্রদানের আশ্বাস দেন।

পরবর্তীতে উভয়ের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়।

অভিযোগ মোতাবেক, চুক্তির স্বাক্ষরিত কপি অদ্যাবধি শিল্পীকে প্রদান করা হয়নি। একই সঙ্গে গত চার বছর ধরে বিভিন্ন অজুহাতে হিসেব ও রয়্যালিটির অর্থ প্রদান করছেন না অভিযুক্ত আহসানুল হাবিব অনিক। 

নোটিশে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, শিল্পীর জনপ্রিয় গান ‘ফুল তো ফোটে না’, ‘ওলো আমার পরান সখী’, ‘ও বন্ধুরে’, ‘যায়রে যায় কন্যা যায়’, ‘দোহাই তোমার প্রথম চিঠি’ ও ‘জেলে চাঁদের মোমবাতি’সহ প্রায় দুই শতাধিক গান বিভিন্ন সোশাল মিডিয়ায় এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্লাটফর্মে প্রকাশ ও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

নোটিশে শিল্পী দাবি করেছেন, এসব গান থেকে বিভিন্ন প্লাটফর্মে স্ট্রিমিং, বিজ্ঞাপন, ডাউনলোড, লাইসেন্সিং ও কনটেন্ট আইডির মাধ্যমে এ পর্যন্ত আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখ টাকারও বেশি আয় হয়েছে। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী প্রাপ্য রয়্যালিটির একটি টাকাও তাকে প্রদান করা হয়নি।

লিগ্যাল নোটিশে আরো অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিল্পীর সঙ্গে প্রতারণা ও কপিরাইট আইন ভঙ্গ করেছেন। নোটিশের ৩০ দিনের মধ্যে সকল ডিজিটাল প্লাটফর্ম থেকে আয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসেব, রেভিনিউ স্টেটমেন্ট, প্রাপ্য রয়্যালিটি পরিশোধ, স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্র হস্তান্তর এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কপিরাইট আইন, ২০২৩ এবং প্রচলিত ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT