সমুদ্রে মাছ ধরায় চলমান নিষেধাজ্ঞার কারণে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় ঝালকাঠিতে বেড়েছে সব ধরনের মাছের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি মাছের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত, যা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
আজকের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকার ভেদে তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে। গত সপ্তাহে ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া পাঙ্গাস এখন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। পোয়া মাছের দাম ৫০০ থেকে ৫৫০টাকা, চাষের শিং ৪০০ টাকা এবং কই মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকায়। এছাড়া পাবদা মাছ ৩৫০ টাকা, তুলারডাটি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং কাতল মাছ ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট আকারের ইলিশের দাম উঠেছে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায়। বিভিন্ন প্রজাতির চিংড়িও বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা কেজি দরে।
কয়েকজন মাছ ব্যবসায়ীরা বলছেন, সমুদ্রে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে বাজারে চাপ পড়েছে স্বাদুপানির মাছের ওপর, যার কারণে বেড়েছে দাম। তবে নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে বাজার স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করছেন তারা।
অন্যদিকে, কয়েকজন ক্রেতা বলছেন, হঠাৎ করে মাছের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় আমিষের চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজারে নিয়মিত মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঝালকাঠি উপজেলা সিনিয়ার মৎস্য কর্মকর্তা সাইয়ে্যদা বলেন, সাগরের যে অবরোধ চলছে তার প্রভাব ঝালকাঠি বাজারে পড়ে না, রাজাপুরে বেশ কিছু ছেলেরা সাগরে মাছ ধরলেও তার প্রভাব এই জেলা বাজারে নেই। ঝালকাঠি এবং আশপাশের যে চাষের মাছ রয়েছে সেই মাছি বাজারে চাহিদা পূরণ হয়। আজ অবরোধের শেষ দিন আশা করি সামনের দিনগুলোতে বাজারে মাছের দাম কমে আসবে।
আজ ১১ জুন মধ্যরাত থেকে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে ছেলেরা সাগরে জাল ফেলতে পারবেন। এরপর ধীরে ধীরে বাজারে মাছের সরবরাহ বাড়বে এবং মাছের দামও স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে বলে জানিয়েছেন সংস্লিষ্ঠরা।