ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরাইলে প্রবাসীর স্ত্রীর লাশ উদ্ধার,খুনের অভিযোগ

author
স্টাফ রিপোর্টার ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশিত : ১১ জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০১
ad003
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে কুলসুম আক্তার-(২৮) নামে এক বাহরাইন প্রবাসীর স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের বেড়তলার উত্তরপাড়া স্বামীর বাড়ি থেকে  তার লাশ উদ্ধার করা হয়। কুলসুম বেগম বেড়তলা গ্রামের দুধু মিয়ার ছেলে আক্তার হোসেনের স্ত্রী ও এক সন্তানের জননী। তবে কুলসুম বেগমের স্বজনদের অভিযোগ জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কুলসুমকে খুন করা হয়েছে।

পুলিশ, কুলসুম বেগমের স্বজন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ১০ বছর আগে পানিশ্বর ইউনিয়নের শান্তিনগর গ্রামের আলী হোসেনের মেয়ে কুলসুম আক্তারের সাথে একই ইউনিয়নের বেড়তলা গ্রামের দুধু মিয়ার ছেলে আক্তার হোসেনের  বিয়ে হয়। কুলসুম এক পুত্র সন্তানেন জননী। তার ছেলে আশরাফুল ইসলাম (০৮) সরাইল উপজেলার কুট্রাপাড়ায় একটি মাদ্রাসায় থেকে পড়ালেখা করে।  কুলসুমের স্বামী আক্তার হোসেন বাহারাইন প্রবাসী। স্বামীর বাড়ির একটি টিনশেড ঘরের এক পাশে কুলসুম একা থাকেন। আরেক পাশে থাকেন তাঁর দেবর আলকাছ।

অন্যান্য দিনের মতো গত বুধবার রাতে নিজ শয়ন কক্ষে একা ঘুমিয়ে ছিলেন কুলসুম। বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে উঠতে বিলম্ব হলে কুলসুমের শ্বাশুড়ি ওই ঘরে প্রবেশ করে দেখতে পান বিছানায় কুলসুম চিৎ হয়ে পড়ে আছে। কোন সাড়া শব্দ নেই। শরীরে ধাক্কা দিয়ে দেখেন নিথর দেহ।

তা দেখে তিনি চিৎকার শুরু করেন। পরে কুলসুমের বাবার বাড়িতে খবর দেয়া হয়। কুলসুমের বাবার বাড়ির স্বজনরা এসে কুলসুমকে খুনের অভিযোগ করেন।

কুলসুমের বাবা আলী হোসেন অভিযোগ করে বলেন, চাচাত শ্বশুর ইউসুফ আলী গংরাই কুলসুমকে খুন করেছে। এরা কুলসুমকে হত্যা করে তাঁর কাছে থাকা টাকা, মুঠোফোন সেট ও স্বর্ণালঙ্কার গুলো ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। ঘরের সুকেস, ষ্টীলের আলমিরার তালা ভাঙ্গা ও খোলা ছিল। জায়গার বিরোধে আগেও এরা কয়েকবার কুলসুমকে মারধর করেছে। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউসুফ আলী।

এদিকে খবর পেয়ে সরাইল থানার এ.এস.আই মো. তানবীর ঘটনাস্থলে পৌছে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য থানায় নিয়ে আসেন। এ.এস.আই মোঃ তানবীর ভূঁইয়া বলেন, লাশের গলা ও কানের নীচে কালচে দাগ পাওয়া গেছে।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, মালামাল বা স্বর্ণালঙ্কার চুরির অভিযোগ সঠিক নয়। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত হত্যা বা আত্মহত্যা কোনটাই নিশ্চিত বলা যাবে না। কুলসুমের স্বজনদের জন্য ইউডি অথবা হত্যার অভিযোগ দায়ের দুটি পথই রয়েছে। ডাক্তারী পরীক্ষা নিরীক্ষা ও পুলিশি তদন্তে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে। আমরা তদন্ত করছি।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT