ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কটিয়াদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষকে অচেতন করে প্রতারণার চেষ্টা, আটক ১

author
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১২ জুন, ২০২৬ সকাল ৬:২৮
ad003
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষকে অচেতন করে প্রতারণার চেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় অসুস্থ হয়ে পড়েন কলেজের অধ্যক্ষ আতাউর রহমান। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

গতকাল কটিয়াদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

আটক ব্যক্তির নাম ইমরান হাওলাদার (৫০)। তিনি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের টার্কিচর গ্রামের মো. সোহরাব হাওলাদারের ছেলে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

কলেজের পরিবেশ, প্রকৃতি ও উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক শাহ আলম জানান, সকালে কয়েকজন শিক্ষক অধ্যক্ষের কক্ষে অবস্থান করছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি এসে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি পরিচয় দিয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলতে শুরু করেন। একপর্যায়ে অধ্যক্ষ কক্ষে থাকা শিক্ষকদের বাইরে যেতে বলেন। এরপর প্রায় আধাঘণ্টা ধরে দুজনের মধ্যে রুদ্ধদ্বার বৈঠক চলে।

তিনি বলেন, “দরজা খোলার পর কক্ষের ভেতর থেকে তীব্র সুগন্ধিযুক্ত গন্ধ বের হতে থাকে। এতে আমাদের সন্দেহ হয়। পরে অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাকে কিছুটা অচেতন ও অসংলগ্ন অবস্থায় দেখা যায়। তিনি স্বাভাবিকভাবে কথাও বলতে পারছিলেন না। এ সময় ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সেও অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে শুরু করে। পরে অধ্যক্ষের কাছ থেকে নেওয়া চার হাজার টাকা ফেরত দেয়। এরপর তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।”

কলেজের শিক্ষকদের ধারণা, কোনো চেতনানাশক বা অজ্ঞানকারী পদার্থ প্রয়োগের কারণে অধ্যক্ষ অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। তবে তদন্ত ছাড়া বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

অধ্যক্ষ আতাউর রহমান বলেন, “প্রথমে লোকটির কথাবার্তা শুনে তাকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি মনে হয়েছিল। তিনি কবিরাজি চিকিৎসার বিষয়ে কথা বলতে শুরু করেন। এরপর আমার সঙ্গে কী ঘটেছে, তা আর মনে করতে পারছি না। এর আগে তার সঙ্গে আমার কোনো পরিচয় ছিল না।”

এ বিষয়ে কটিয়াদী থানার তদন্ত পরিদর্শক মো. শ্যামল মিয়া বলেন, “ওই ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তার নাম ইমরান হাওলাদার এবং বাড়ি বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় বলে জানিয়েছেন। এছাড়া কবিরাজি চিকিৎসা ও ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলেও জানিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT