সরকারের প্রথম ১০০ দিনের অন্যতম আলোচিত উদ্যোগ হিসেবে চকরিয়া-পেকুয়ায় বাস্তবায়নের পথে রয়েছে নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলা, পেকুয়া পৌরসভা ও মেহেরনামা ইউনিয়ন। দীর্ঘদিনের দাবি ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে নেওয়া এ পদক্ষেপকে স্থানীয়রা ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে দেখছেন।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সরকার গঠনের পর প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
নতুন মাতামুহুরি উপজেলার আওতায় আনা হয়েছে বদরখালী, ঢেমুশিয়া, কোনাখালী, বিএমচর (ভেওলা মানিকচর), পূর্ব বড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা ও সাহারবিল ইউনিয়ন। অন্যদিকে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের অংশ নিয়ে গঠন করা হয়েছে পেকুয়া পৌরসভা এবং মেহেরনামা মৌজাকে কেন্দ্র করে নতুন ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, এসব প্রশাসনিক পুনর্গঠনের ফলে সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আসবে এবং নাগরিক সুবিধা বাড়বে।
মাতামুহুরি উপজেলার বাসিন্দা ডা. হেলাল উদ্দিন বলেন, উপজেলা প্রতিষ্ঠার ফলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও প্রশাসনিক সেবা আরও সহজলভ্য হবে। অ্যাডভোকেট শাহেদুল ইসলাম বলেন, নতুন উপজেলা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।
পেকুয়া ঋণদান সমিতির সহ-সভাপতি সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, পৌরসভা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পেকুয়া আধুনিক নগরকেন্দ্রে পরিণত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। সাংবাদিক নাজিম উদ্দিনের মতে, এটি পেকুয়ার উন্নয়নের নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
মেহেরনামা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সাহেদুল ইসলাম বলেন, নতুন ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার ফলে জনগণ আরও কার্যকর সেবা পাবে। পেকুয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আনসারী বলেন, প্রশাসনিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে অবহেলিত এলাকাগুলোর উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী ১৩ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চকরিয়া-পেকুয়া সফরে এসে নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলা, পেকুয়া পৌরসভাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এ উপলক্ষে এলাকাজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয়দের মতে, সরকারের প্রথম ১০০ দিনের উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে মাতামুহুরি উপজেলা, পেকুয়া পৌরসভা ও মেহেরনামা ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ চকরিয়া-পেকুয়ার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের নতুন ভিত্তি রচনা করবে।