বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন- বাংলাদেশের বন্ধুত্বের সমর্থনে আমার এই ঠাকুরগাঁওয়ে আসা। শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত, এটা মির্জা ইসলাম আলমগীর স্যারের নির্বাচনী এলাকা। আমি বলতে চাই, মির্জা ফখরুল বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত রাজনীতিবীদ। কয়েকদিন আগে তিনিসহ উচ্চ পর্যায়ের এক প্রতিনিধিদল আমাদের দেশ চীন সফর করেছেন। এতে প্রতিফলিত হচ্ছে, চীন-বাংলাদেশের বন্ধুত্বকে সমর্থন এবং আলমগীর স্যারের ভালবাসা।
তিনি শুক্রবার সকালে ঠাকুরগাঁও শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে চীন-বাংলাদেশ মৈত্রীর উদ্যোগ হিসেবে স্কুল শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুলব্যাগসহ শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। এ সময় ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৩৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬ হাজার ৩শ ৮ জন শিক্ষার্থী এই উপকরণ গ্রহণ করে।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আরও বলেন, শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যৎ। আমি আশা করি, আমাদের এই শিক্ষা উপকরণ বিতরণ আপনাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করা এবং সামগ্রিক উন্নয়নকে তরান্বিত করতে ভূমিকা রাখবে। আমি এখানে অনেক চাষবাসের জমি দেখতে পেলাম যেখানে আপনারা ফসল উৎপাদন করে আসছেন। আমরা চাই, ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে এবং আপনাদেরকে কথা দিচ্ছি আগামী জুলাই/আগস্ট মাসের মধ্যে চীনের একটা শক্তিশালী প্রতিনিধিদল এখানে আসবে। আমি দেখেছি, এখানকার একজন ক্ষুদে শিক্ষার্থী চমৎকার ইংরেজিতে বক্তব্য দিয়েছে আশা করি তারা চীনা ভাষায়ও চমৎকার বক্তব্য রাখতে পারবে।তিনি বলেন, আমি আশাবাদী যে এ বছর বা আগামী বছর এখানকার একটা ছাত্র-ছাত্রী প্রতিনিধিদল চীন সফর করবে এবং আমি সে ব্যবস্থা করে দেবো।
পরিশেষে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন , আমি আশা করি আপনারা সবাই চীন সফর করবেন এবং চীন বাংলাদেশ বন্ধুত্বকে সমর্থন দেবেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, চীন আজ বিশ্বের অত্যন্ত শক্তিশালী দেশ, তারা প্রতিদিনই বদলায়, প্রতিদিনই উন্নত থেকে উন্নততর হয়। চীন যেমন নিজের দেশের জন সাধারণের কল্যাণ করেছে, তেমনি এখন তারা সারা পৃথিবীর মানুষের জন্য এমনকি আমাদেরকেও ব্রীজ কালভার্ট রাস্তাঘাট বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উন্নয়নে সমর্থন করছেন। তাঁরা ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে সম্মত হয়েছেন। প্রিয় চীনা রাষ্ট্রদূত কথা দিয়েছেন, আগামীতে এখানে কলকারখানা প্রতিষ্ঠা করতে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করবে চীন।
মির্জা ফখরুল চীনের উন্নতির উদাহরণ টেনে আরও বলেন, আমাদেরকেও উন্নতি করতে গেলে নিজেদেরকে চেষ্টা করতে হবে এবং ছাত্র-ছাত্রীদেরকে পড়াশোনায় মনোযোগী ও অধ্যাবসায়ী হতে হবে।
এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষিকা শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।