ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
কংসের ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে জনপদ

হুমকিতে মুক্তিরবাজার: স্কুল, মসজিদ-মন্দির ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আতঙ্কে ১০ গ্রামের মানুষ

author
নেত্রকোণা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৩ জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৬
ad003
নেত্রকোণার সদর উপজেলার কালিয়ারা-গাবরাগাতী ইউনিয়ন এবং বারহাট্টা উপজেলার বাউশি ইউনিয়নসংলগ্ন কংস নদীর অব্যাহত ভাঙনে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। বছরের পর বছর ধরে চলা ভাঙনে ইতোমধ্যে বিলীন হয়েছে শতাধিক বসতবাড়ি, ফসলি জমি, গাছপালা ও বনাঞ্চল। এখন নদীর ভয়াল থাবার মুখে রয়েছে মুক্তিরবাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দির এবং কয়েকটি গ্রামের একমাত্র যোগাযোগ সড়ক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে বাহিরকান্দা, নেওবদ, হরিদাসপুর, কাকিয়াকুড়ি, মহিষাশুড়া, চকারকান্দা, সেহড়াউদ, কর্নখলাসহ অন্তত ১০টি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করে। ফলে নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে সাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুক্তিরবাজার, স্থানীয় মসজিদ ও মন্দির, ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সংলগ্ন এলাকা এবং বিভিন্ন গ্রামের মানুষের চলাচলের প্রধান সড়ক। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যেকোনো সময় গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থাপনা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

মুক্তিরবাজার এলাকার স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে সড়কটি সংস্কার হয়নি। একসময় এটি ছিল কয়েকটি গ্রামের মানুষের প্রধান যাতায়াত পথ। কিন্তু কংস নদীর ভাঙনের কারণে সড়কের একপাশ ধসে পড়ছে। বর্তমানে ভ্যান, রিকশা ও অটোরিকশার চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বৃষ্টি হলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, পাহাড়ি ঢল নামলেই তাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নদীর তীব্র স্রোত ও ঘূর্ণিপাকের কারণে প্রতিনিয়ত মাটি ভেঙে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে স্কুল ও মাদ্রাসায় পাঠাতে উদ্বিগ্ন থাকেন।

তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন রোধ ও সড়ক রক্ষায় স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হলেও বাস্তব অগ্রগতি না থাকায় হতাশ স্থানীয়রা।

তবে আশার কথা শুনিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। নেত্রকোণা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কংস নদীর তীব্র ভাঙনে মুক্তিরবাজারসংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সড়কটি রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষামূলক কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ঠিকাদার নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে এবং খুব শিগগিরই মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিরক্ষামূলক কাজ বাস্তবায়িত হলে ওই এলাকায় নদীভাঙনের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে এবং সড়কটি সুরক্ষিত থাকবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে একই স্থানে পুনরায় ভাঙন যাতে না দেখা দেয়, সে লক্ষ্যে টেকসই ও স্থায়ী সমাধানের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এদিকে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কাজ শুরু না হলে কংস নদীর অব্যাহত ভাঙনে মুক্তিরবাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। একই সঙ্গে আরও বিস্তীর্ণ জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT