ইউরোপ-আমেরিকা যাচ্ছে সাতক্ষীরার কলারোয়ার মাটির টালি ও টাইলস। এখানকার তৈরি বিভিন্ন নান্দনিক ও টেকসই টালি ও টাইলস দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এখন রপ্তানি হচ্ছে ইতালি, আমেরিকা, ইংল্যান্ড, কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া এবং দুবাইসহ বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে। তবে এটি স্থানীয়দের কাছে ‘ইটালির টালি’ বলেই বেশি পরিচিত। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের সুনাম কুড়াচ্ছে কলারোয়ার এই শিল্প।
কলারোয়া পৌরসভাধীন মির্জাপুর ও মুরারীকাটির পালপাড়া এলাকায় ৪-৫টি ‘ইটালির টালি’ কারখানা রয়েছে। সেখানে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অসংখ্য নারী-পুরুষ কারিগর হিসেবে কাজ করেন। প্রথমে মাটি কাদা করে বিভিন্ন ডিজাইনের কাঠের ফ্রেমের দ্বারা আকৃতির পর সেগুলো রোদে শুকানো হয়। কাদা মাটির সাথে কিছুক্ষেত্রে রং মিশ্রন করানো হয়। ক্ষেত্রবিশেষে রং-এর প্রলেপও দেয়া হয়। রোদে শুকানোর পর নির্দিষ্ট বড় মাটির চুল্লির মধ্যে টালি সাজিয়ে আগুনো পুড়ানো হয়। আগুনে পুড়ানোর পর টালিগুলো ইটের মতো শক্ত হয়ে যায়। এগুলোই পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন স্থানের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানি করা হয়।
মাটির টালি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘কলারোয়া টালি ঘর’ এর মালিক আবুল হোসেন জানান, কারখানায় দক্ষ কারিগর দ্বারা মাটি দিয়ে বিভিন্ন ডিজাইনের আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন টালি তৈরি করা হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে ছাদ ও চালের জন্য ঘরের ছাউনী টালি ও রূপ টালি, দেয়ালের সৌন্দর্যে বিশেষ ডিজাইনের ওয়াল টালি এবং শৈল্পিক টেরাকোটা টালি, মেঝের জন্য মজবুত ও আকর্ষণীয় ফ্লোর টালি এবং ব্লকসহ ঘর সাজানোর নানাবিধ মাটির সামগ্রী। মাটির তৈরি এই পণ্যগুলোর চাহিদা এখন বিশ্বজুড়ে।
কারখানার কারিগর রোজিনা খাতুন জানান, কাদা মাটি দিয়ে তিনি প্রতিদিন প্রায় পাঁচশতোর মতো টালি কাঠের ফ্রেমের দ্বারা প্রস্তুত করতে পারেন।
স্থানীয়রা জানান, কলারোয়ার এই টালি শিল্পের প্রসার শুধু স্থানীয় অর্থনীতিকেই চাঙ্গা করছে না, বরং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্র্যান্ডকে বিশ্বের দরবারে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই শিল্প খাত আরো উন্নত হতে পারে।