একটি মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে শুধু একটি ডিভাইসই হারায় না, হারিয়ে যায় অসংখ্য স্মৃতি, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং অনেক সময় ব্যক্তিগত নিরাপত্তার নিশ্চয়তাও। চুরি, ছিনতাই কিংবা অসাবধানতাবশত হারিয়ে যাওয়া ফোন ফিরে পাওয়ার আশা যখন প্রায় শেষ হয়ে যায়, ঠিক তখনই অনেকের মুখে হাসি ফিরিয়ে এনেছে ১২ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সাইবার টিম।
আজ রোববার (১৪ জুন) রাজধানীর পূর্বাচলে এপিবিএনের অস্থায়ী কার্যলয়ে এক অনুষ্ঠানে প্রযুক্তির সহায়তায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হারিয়ে যাওয়া ও চুরি হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিচ্ছে ১২ এপিবিএন। গত এক বছরে সাইবার টিমের ধারাবাহিক অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ২ হাজার ৯৭টি মোবাইল ফোন। একই সঙ্গে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতারণা বা ভুলবশত অন্যের কাছে চলে যাওয়া অর্থও উদ্ধার করে ভুক্তভোগীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
হারানো ফোন উদ্ধারের এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে। অভিযোগ পাওয়ার পর ফোনের আইএমইআই নম্বর ট্র্যাকিং, তথ্য যাচাই এবং মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানের মাধ্যমে উদ্ধার করা হয় হারিয়ে যাওয়া ডিভাইসগুলো। পরে প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করে সেগুলো হস্তান্তর করা হয়।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নিজেদের হারিয়ে যাওয়া ফোন ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বসিত ভুক্তভোগীরা। অনেকেই বলছেন, ফোনের দামের চেয়ে এর ভেতরে থাকা পারিবারিক ছবি, প্রয়োজনীয় তথ্য এবং স্মৃতিগুলো ফিরে পাওয়াটাই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
১২ এপিবিএনের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ এনামুল কবির বলেন, জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে এবং সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় ১২ এপিবিএনের সাইবার টিম নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার এবং প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের অবশ্যই তাদের ফোনের আইএমইআই নম্বর সংরক্ষণ করা উচিত। ফোন হারিয়ে গেলে দ্রুত থানায় জিডি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালে উদ্ধারের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
প্রযুক্তির এই যুগে অপরাধের ধরন যেমন বদলাচ্ছে, তেমনি বদলাচ্ছে অপরাধ দমনের কৌশলও। আর সেই বাস্তবতায় তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের হারিয়ে যাওয়া সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ১২ এপিবিএন।
হারিয়ে যাওয়া ফোন ফিরে পাওয়ার আনন্দে উজ্জ্বল অসংখ্য মুখই যেন বলে দিচ্ছে, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকলে হারিয়ে যাওয়া আশা আবারও ফিরে আসতে পারে।