ঢাকা | শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বানিয়াচংয়ে চোরের উপদ্রব বৃদ্ধি, আতঙ্কে এলাকাবাসী

author
বানিয়াচং (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৪ জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৪০
ad003
হবিগঞ্জের বানিয়াচং  উপজেলা সদরে চোরের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে, প্রতিনিয়ত ঘটছে চুরির ঘটনা। 
 
দিনে হাস,মোরগ,ছাগল,ভেড়া কোন কিছুই বাদ যাচ্ছে না চোরের হাত থেকে। মাদকসেবীদের সংখ্যা যেমন বাড়ছে তেমনি চুরি,ছিনতাই ও বেড়ে চলেছে।প্রতিদিনই চুরির ঘটনার কথা জানা যায়। 

বিশেষ করে মোবাইল চুরি বেশি হচ্ছে। চোরের উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে প্রতিটি এলাকার জনসাধারণ। মাঝেমধ্যে চুরি ছিনতাই প্রতিরোধে প্রশাসনের অভিযানে চিছকে চোরদের আটক করা হলেও চিহ্নিত তালিকাভুক্ত চোরেরা থাকছে ধরা ছুঁয়ার বাইরে, ফলে আতঙ্কে রাত্রি যাপন করতে হচ্ছে এলাকার লোকজনকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় গতকাল শনিবার রাতে উপজেলা সদরের ইনাতখানী মহল্লার বাসিন্দা রাজমিস্ত্রি কালাম মিয়ার দরজা ভেংগে নগদ ৭ হাজার টাকা,২টি মোবাইলসহ মোট ৩০ হাজার টাকার জিনিস চুরি করে নিয়ে যায়।এধরণের ঘটনা প্রতিদিনই বানিয়াচংয়ের কোন না কোন এলাকায় ঘটলেও ছিচকে চোর ছাড়া ণামকরা একজনও চোরও ধরা পড়েনি। এর পূবে' দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার বানিয়াচং প্রতিনিধি শেখ জোবায়ের জসিম এর বাসা থেকে টিউবওয়েল,গ্যাস সিলিন্ডারসহ প্রায় ৪০ হাজার টাকার মালামাল চুরি হলেও পুলিশকে জানালেও কোন ধরনের ফল পাওয়া যায়নি। 

নন্দীপাড়া মহল্লার শেখের হাটির বাসিন্দা মৃত আরব মিয়ার ছেলে  আজিজ মিয়া এবং একই এলাকার মনু মিয়ার বাড়ি থেকে  ২টি টিউবওয়েল চুরি হয়, পরের  দিনই আবার আলী আকবরের বাড়ির সাইটের টিন কেটে চুর ঢুকে  স্বর্ণালংকার সহ মূল্যবান জিনিস পত্র  চুরি করে নিয়ে যায়।  আকবর মিয়ার স্ত্রী জানান, সারাদিন কাজ শেষে (নিজেদের টিউবওয়েল চুরি হয়ে যাওয়ায়)রাত ৯টা কি সাড় নয়টার সময় ঘর তালাবদ্ধ করে প্রতিবেশির বাড়িতে  সন্তানকে নিয়ে গোসল করতে গিয়েছিলাম, ফিরে এসে দেখি ঘরের সবকিছু এলোমেলো, ড্রয়ারের তালাগুলো  ভাঙ্গা, স্বর্ণালংকার সহ  মূল্যবান জিনিস পত্র  কিছুই নেই , ঘরের সাইটের(পিছনের) দিকের টিন কেটে জানালার মত করে রাখা। 

এলাকার বাসিন্দা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মনির উদ্দিন বলেন, আমাদের এলাকায় চোরের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে , প্রতি রাতেই কোননা কোন বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে।  চোরেরা হাঁস মুরগী ,গরু,ছাগল যা পায় তাই নিয়ে যায়, সম্প্রতি  বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেশি হওয়ায়  চোরেরা আরও বেশি সুযোগ পাচ্ছে। 

শরীফখানি মহল্লার  বাসিন্দা  ও ছাত্র নেতা জিসান আহমেদ বলেন, তুলনামূলক ভাবে এখন চোরের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে  চোরদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে  মানুষের ঘুম হারাম হয়ে যাবে, প্রতিটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করা থাকলেও সেগুলো  দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ নষ্ট হয়ে পড়ে আছে, এগুলো ঠিক থাকলে চোরদের চলাফেরায় কিছুটা হলেও বাঁধাগ্রস্ত হবে, এ ছাড়াও এলাকায় চুরি ডাকাতি রোধে  প্রশাসনের তেমন কোনো ভূমিকা  না থাকায় এলাকায়  মাদকের  সহজলভ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মাদকসেবীদের সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে  ফলে সমাজে মাদকের ভয়াল প্রভাব পড়ছে, চুরি ডাকাতি ও মাদকের  বিরুদ্ধে  দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে যুব সমাজকে খেলাধুলায় বেশীক্ করে জড়িত করা জরুরী বলে সচেতনমহল মনে করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT