নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদীর জেগে ওঠা চরাঞ্চলে চলতি মৌসুমে চিনাবাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। কম খরচে অধিক উৎপাদন এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় চরাঞ্চলের কৃষকদের মুখে ফিরেছে স্বস্তির হাসি। নদীর বুকে জেগে ওঠা বালুচরে বাদাম চাষ করে অনেক কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। এতে অন্যান্য কৃষকরাও এ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
উপজেলার ঈশ্বরদী ইউনিয়নের কৃষক রবি জানান, তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে চিনাবাদাম চাষ করেছেন। বীজ কেনা, রোপণ ও ফসল উত্তোলনসহ মোট খরচ হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। ফলন ভালো হওয়ায় বাজারদর অনুকূলে থাকলে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার টাকার বাদাম বিক্রির আশা করছেন তিনি।
আরেক কৃষক আব্বাস বলেন, “বালুচরে অন্য ফসল তেমন ভালো হয় না। কিন্তু চিনাবাদাম খুব ভালো হয়। সার, কীটনাশক কিংবা সেচের তেমন প্রয়োজন হয় না। আবার পাইকাররা জমি থেকেই বাদাম কিনে নেয়। ফলে বাড়তি পরিবহন খরচও নেই। প্রতি বিঘায় ১৩ থেকে ১৪ মণ পর্যন্ত ফলন পেয়েছি।”
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনুকূল আবহাওয়া ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম থাকায় এবার বাদামের ফলন আশানুরূপ হয়েছে। রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহারও ছিল তুলনামূলক কম। এতে উৎপাদন খরচ কমে গেছে এবং লাভ বেড়েছে। ফলে কৃষকদের মধ্যে উৎসাহও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমানে চরাঞ্চলে বাদাম উত্তোলনের ব্যস্ত সময় চলছে। বাদাম তোলা, ঝাড়াই ও শুকানোর কাজে দিনভর ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও কৃষাণীরা। চরজুড়ে এখন চলছে যেন বাদাম উৎসব।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদী, লালপুর সদর ও বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের পাঁচটি কৃষি ব্লকের প্রায় ৩ হাজার ৭৫৪ হেক্টর চরাঞ্চলের মধ্যে ৪৬৫ হেক্টর জমিতে বারি চিনাবাদাম-৮ ও ৯, ঢাকা চিনাবাদাম-১ এবং বিনা চিনাবাদাম-৮ জাতের আবাদ করা হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে প্রায় ২ দশমিক ১ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার তিলোকপুর, নিমতলী, গৌরীপুর, চর জাজিরা, মোহরকয়া, বিলমাড়ীয়া ও নওশারা চর এলাকায় দেখা যায়, বিস্তীর্ণ বালুচরজুড়ে সবুজ বাদামের ক্ষেত। এসব এলাকায় ব্যাপক আকারে বাদাম চাষ করেছেন কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, “চরাঞ্চলে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের চিনাবাদাম চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে ভালো ফলন হওয়ায় আগামী বছর এ অঞ্চলে চিনাবাদামের আবাদ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা আশা করছি।”