ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে শিশুশ্রম বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং শিশুদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এর আয়োজনে জনসচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে বর্জ্য খাতে শিশুশ্রম বন্ধে ১২ দফা দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
সমাবেশে "শিশুশ্রমকে লাল কার্ড দেখাই: শিশুর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করি, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থান গড়ি।” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সনাকের ইয়েস সদস্য মোঃ মারুফ মন্ডল টিআইবির ১২ দফা দাবি ও সুপারিশ সম্বলিত ধারণাপত্র পাঠ করেন।
সমাবেশে সনাক, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সভাপতি কবি জয়দুল হোসেনের সভাপতিত্বে ও টিআইবির এরিয়া কোঅর্ডিনেটর মোঃ আব্দুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রভাষক মোঃ মেহেদী হাসান।
বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সনাক সদস্য মোঃ আরজু মিয়া, কন্যা সামাজিক সংগঠনের সভাপতি করবী চক্রবর্তী, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনিটের ইউএলও বৃন্দাবন মন্ডল। ধারণাপত্র পাঠ করেন ইয়েস সদস্য জয়নাব আক্তার।
সমাবেশে শিশুশ্রম নিরসনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা হালনাগাদ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে কর্মরত শিশুদের পুনর্বাসন, স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়া বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণকে শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও নিষিদ্ধ কাজের তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করা, পৌরসভা পর্যায়ে নজরদারি বৃদ্ধি, ওয়ার্ডভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়।
হটলাইন ও বিশেষ পর্যবেক্ষণ ইউনিট গঠনের প্রস্তাব সুপারিশে বলা হয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে শিশুশ্রমের ঘটনা জানাতে পৃথক হটলাইন চালু করতে হবে। পাশাপাশি ডাম্পিং সাইট, ল্যান্ডফিল ও সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনগুলোতে বিশেষায়িত শিশুশ্রম পর্যবেক্ষণ ইউনিট গঠন করে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ ও শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য শ্রম আইন-২০০৬ কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। একই সাথে অপ্রাতিষ্ঠানিক বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃ প্রক্রিয়াজাতকরণে যুক্ত শ্রমিকদের নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মাধ্যমে মূলধারায় আনার উদ্যোগ নিতে হবে।
সমাবেশে সনাক ইয়েস গ্রæপ, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।