নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় লুট হওয়া গাভীর বাছুর মায়ের দুধের অভাবে মারা যাওয়ার ঘটনায় কৃষক সঞ্জু মিয়ার পরিবারে শোক ও আহাজারির সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের ওয়াই গ্রামের পশ্চিমপাড়া এলাকার বাগবাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা জামশেদ আলী, মো. জামাল ও বিজয়সহ একাধিক প্রতিবেশী এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে জানান, গত ১ জুন সংঘটিত হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় একটি গাভীন গাভীসহ মোট চারটি গরু নিয়ে যাওয়া হয়। লুট হওয়া গরুগুলোর মধ্যে একটি গাভীর তিন দিন বয়সী একটি বাছুর বাড়িতে রয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা ফিডারের মাধ্যমে দুধ খাইয়ে বাছুরটিকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত মায়ের দুধের অভাবে সেটি মারা যায়।
তাদের অভিযোগ, মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে খায়রুল ইসলাম (৩৮)-এর নির্দেশে মৃত আলাল উদ্দিনের ছেলে এমদাদ (৩৫) ও ফজলুল হক (২৫)সহ কয়েকজন এ লুটপাটের ঘটনায় জড়িত। তারা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন।
সঞ্জু মিয়ার স্ত্রী খোদেজা বেগম ও তার বোন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বাছুরটিকে মায়ের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এক গ্রাম্য মাতব্বরের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছিলো। কিন্তু পরে সেটিকে আবার বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন কষ্ট করে বেঁচে থাকার পর অবশেষে দুধের অভাবে বাছুরটি মারা গেছে । তিনি আরো বলেন, অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরাঘুরি করছে । আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই ।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত পক্ষ। মৃত আলাল উদ্দিনের স্ত্রী মঞ্জুরা বেগম বলেন, আমরা কোনো লুটপাটের সঙ্গে জড়িত নই। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
অভিযুক্ত খায়রুল ইসলামের ছোট ভাই মাইনুল ইসলাম (২৫) বলেন, আমার ভাই বা পরিবারের কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। বরং তারা নিজেরাই তাদের মালামাল সরিয়ে নিয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের কাছে ফুটেজও রয়েছে।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মেহেদী মাকসুদ মুঠোফোনে জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে। জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া গরুসহ অন্যান্য মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১ জুন পূর্বশত্রুতা ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হওয়ার পর কৃষক সঞ্জু মিয়ার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও গরুসহ মালামাল লুটের ঘটনা ঘটে। তাছাড়া থানায় উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগও রয়েছে।