ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে হত্যার পর নরসিংদীর মেঘনায় ফেলে যায় যুবকের মৃতদেহ

author
নরসিংদী প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৭ জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৮
ad003
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রিফাত আহমেদ (২৮) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যার পর তার মৃতদেহ সঙ্গে নিয়ে যায় প্রতিপক্ষের লোকজন| পরে তার আর সন্ধান পাননি পরিবারের সদস্যরা| ঘটনার দুই দিন পর মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নরসিংদী সদর উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে কান্দাপাড়া জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করেন নরসিংদীর নৌ পুলিশ| 

নিহত রিফাত আহমেদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার ছলিমগঞ্জ ইউনিয়নের থোল্লাকান্দি বড়বাড়ির  মোস্তাক আহমেদের ছেলে| তিনি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গ্যারেজে কাজ করতেন|

নরসিংদী নৌ পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় লোকজন নদীর তীরের একটি ঝোঁপে লাশ পড়ে থাকতে দেখে খবর দেয় নৌ ফাঁড়ির পুলিশকে| তারা লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন করে লাশটি নরসিংদী সদর হসপিটালের মর্গে প্রেরণ করে পুলিশ| নিহতের শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে|

অপরদিকে লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে রাতেই নিহতের বোন মুক্তা বেগম নরসিংদী সদর হসপিটালে এসে পরিচয় সনাক্ত করেন। 

নিহতের বোন মুক্তা বেগম বলেন, এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আমার ভাই রিফাত দীর্ঘদিন যাবৎ নিজ এলাকায় আসতে পারছিল না| আমাদের এক আত্মীয় অসুস্থ্য থাকায় রবিবার (১৪ জুন) রাতে গোপনে বাড়ি আসে| পরে আবার ফিরে যাবার সময় খবর পেয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন আমার ভাইয়ের পিছু নেয়| এসময় আমার ভাই পার্শবর্তী নিলক্ষি দাসপাড়া গ্রামে একটি বাড়িতে আশ্রয় নিলে ডাকাত সরদার মনাক, তার ছেলে সুমন ও রোমানের নেতৃত্বে ২০/৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল হানা দেয়| এসময় ডাকাত সরদার মনাক, তার দুই ছেলেসহ অন্যান্য সদস্যরা বাড়িটি ঘেরাও করে চার পাশ থেকে শত শত রাউন্ড গুলি ছুড়ে| এতে আমার ভাই ঘরের ভিতর গুলিবিদ্ধ হলে তারা টেনে হেঁচড়ে ঘর থেকে বের করে তাদের সাথে নিয়ে যায়| পরে তারা আমার ভাইকে গুলি ও জবাই করে হত্যা করার পর লাশ গুম করে ফেলার উদ্দেশ্যে নদী পথে নরসিংদী সীমান্ত এলাকায় ফেলে যায়| আমি আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের বিচার চাই|

নরসিংদী সদর হসপিটালের আবাসিক মেডিকাল অফিসার ডাক্তার ফরিদা গুলসানারা কবীর কলেন, লাশে পচন ধরে যায়, তবে নিহতের শরীরে গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে| ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে|
 
নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সুজন চন্দ্র সরকার জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে হত্যার পর লাশ নরসিংদীর করিমপুরে ঘেনা নদীর তীরে ফেলে যায়| উদ্ধার হওয়া লাশটি রিফাত নামের এক তরুণের| পরিবারের লোকজন এসেছে, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন|
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT