ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বর্তমান সরকার কোনো দলের সরকার নয়: প্রধানমন্ত্রী

author
স্টাফ রিপোর্টার, মৌলভীবাজার

প্রকাশিত : ১৭ জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩
ad003
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার কোনো দলের সরকার নয় এই সরকার বাংলাদেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষে। যারা ভোট দিয়েছেন তাদের যেমন সরকার, যারা ভোট দেননি তাদেরও সরকার। দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিক সরকারের সব সুবিধা সমানভাবে পাবেন । আমরা সকলের জন্য কাজ করতে চাই। বাংলাদেশের নাগরিক হলেই সে এই সকল সুবিধা পাবে।

বুধবার মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে এই দেশকে স্বাধীন করেছিল এই দেশের জনগণ। বিদেশ থেকে কেউ এসে স্বাধীনতা এনে দেয়নি। একইভাবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছেও এই দেশের সাধারণ মানুষ, ছাত্র-জনতা, নারী-পুরুষ সকলে মিলে রাজপথে নেমে এসে। এছাড়া এই দেশকে স্বাধীন করেছে বাংলাদেশের জনগণ। এই দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে বাংলাদেশের জনগণ। কাজেই দেশকেও গড়ে তুলবে এই বাংলাদেশের জনগণ।

তিনি আরো বলেন, এই দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত। এই ৪০ কোটি হাত যদি অলস হয়ে পড়ে থাকে, তাহলে দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন কখনো সম্ভব হবে না। দেশ গড়তে হলে সরকার ও জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে। সরকারের যেমন দায়িত্ব আছে উন্নয়ন কাজ করার, শিক্ষার ব্যবস্থা করার, নারীদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার এবং মানুষের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করার ঠিক একইভাবে জনগণকেও তাদের নিজস্ব দায়িত্ব পালন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে যখন দেশ ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছিল, তখন তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেছিলেন, এই বাংলাদেশের মাটিই তাঁর প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। কাজেই এই দেশকে যদি সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, তাহলে সকলকে হাতে হাত মিলিয়ে একসাথে কাজ করতে হবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিস ফারজানা শারমীন, হুইপ জি কে গৌছ, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকু, মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দীন আহমেদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জহরত আদিব চৌধুরী, জেলা পরিষদ প্রশাসক মিজানুর রহমান, জেলা বিএনপির আহবায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন, সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহমিনা রুশদীর লুনা, সংসদ সদস্য আব্দুল মালিক সহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাগণ। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য নাসের রহমান জেলার গুরুত্বপুর্ণ দাবীগুলোর মধ্যে মেডিকেল কলেজ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, শমশেরনগর বিমানবন্দর পূনরায় চালু করতে প্রধান মন্ত্রীকে অনুরোধ করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী সময় লাগবে বলে জানান দেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশ যখনই ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে যায়, দেশের অর্থনীতি যখনই গতি পেতে শুরু করে, তখনই একটি স্বার্থান্বেষী মহল দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে। অতীতেও ১৭৩ দিন হরতাল, ভাঙচুর ও অবরোধ দিয়ে দেশের মানুষের জীবন বিপর্যস্ত করা হয়েছিল। সেই একই মহল আজ আবার বলছে, সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না। তিনি প্রশ্ন রাখেন, যারা এ কথা বলছে তারা কি জনগণের স্বার্থে কথা বলছে, নাকি নিজেদের স্বার্থে?

সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রশ্নটিকে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, আজকে দেখুন, সংবাদপত্র কোনো খবর ছাপলে সেটি সরকারের পক্ষেই হোক বা বিপক্ষেই হোক  সেই সংবাদপত্র কিন্তু ভয় পায় না। সে তার কথা বলে। একইভাবে যেকোনো ব্যক্তি সরকারের পক্ষে বা বিপক্ষে যা-ই বলতে চান, তা নির্ভয়ে বলতে পারছেন।

তিনি আরো বলেন, বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে এই দেশের মানুষের বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতা সম্পূর্ণরূপে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ভোটের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল, কথা বলার অধিকার হরণ করা হয়েছিল । সেই অন্ধকার অধ্যায়ের বিরুদ্ধে গত এক যুগ ধরে বাংলাদেশের মানুষ রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। অবশেষে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটে এবং হারানো অধিকার পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেই আজকে আমরা জনগণের জন্য কাজ করতে পারছি, দেশের জন্য কাজ করতে পারছি। তিনি স্পষ্ট করেন, এই গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণসহ সরকারের কল্যাণমুখী কর্যক্রমগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো না।

তিনি বলেন, আজকের দিনটি আমার জন্য আনন্দের দিন। আমরা বলেছিলাম ফ্যামেলী কার্ড দেব। এটা আমাদের নির্বাচনী ওয়াদা ছিল। আজকেই এর বাস্তবায়ন করতে পারলাম। নারী চা শ্রমিকদের হাতে কার্ড দিতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। দু:স্থ, অসহায় ও মেধাবী ছাত্রদের সহায়তা, গরীবদের চিকিৎসা সাহায্য, কৃষকদের কৃষি কার্ড দিয়েছি আমরা। প্রাইমারি স্কুলের বাচ্চাদের হাতে নতুন জামা ও স্কুল ব্যাগ তুলে দেব। 

প্রধানমন্ত্রী জনগণকে উদ্দেশ্য করে বলেন, অতীতে আমরা দেখেছি বিএনপিকে একমুহূর্ত শান্তিতে থাকতে দেওয়া যাবে না। আজকে আবার দেখছি বিএনপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে যারা একত্রিত হয়ে আন্দোলন আন্দোলন খেলা খেলেছিল, যারা ষড়যন্ত্র করেছিল, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে, মানুষের ভোটের অধিকারের বিরুদ্ধে সেই তারা এখন আবার বলছে সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না। যারা বলে সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না, তারা কি জনগণের পক্ষে কথা বলে না বিপক্ষে কথা বলে? তাই এই ব্যাপারে জনগণকে সজাগ থাকতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা যে বাজেট উপস্থাপন করেছি, তাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ট্যাক্স তুলে নিয়েছি, যাতে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে চলে আসে। 

মূল বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের হাতে আজকে আমি এই দেশের নিরাপত্তা, উন্নয়ন, ভবিষ্যত শপে দিয়ে গেলাম।

মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে প্রধানমন্ত্রী  একযোগে দেশের ২০টি জেলায় ফ্যামেলী কার্ড পাইলটিং কর্মসূচীর তৃতীয় পর্যায়ের শুভ উদ্বোধন করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী ফ্যামেলী কার্ড বিতরণের পাশাপাশি দুস্থ অসহায়দের সহযোগিতা, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে অর্থ সহায়তা, পাহাড়ি নৃ-গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তি প্রদান, চা শ্রমিকদের মাঝে বরাদ্দ ও অসহায় শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তি তুলে দেন তিনি।

এদিকে সন্ধ্যায় মৌলভীবাজারের দুসাই রির্সোটে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সভা হয়। সেখান থেকে তিনি সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপি নেত্রী অসুস্থ খালেদা রাব্বানীকে দেখতে যান।

এর আগে বেলা দেড় টায় তিনি জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে  ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রমিকসহ নানা শ্রেণী পেশার ১৫৫ জনকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করেন। এসময় তিনি বলেন, আগামী ৫ বছরে উপজেলার ৫০ বেডের হাসপাতাল ১০০ বেডে উন্নীত করা হবে।

ওই সভার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের অর্থ জনগণকে না দিয়ে বিদেশে পাচার করেছিলো একটি দল। জনগণের টাকা পাচার হতে দেবো না, জনগণের অর্থ দিয়ে জনগণের কাজ করা হবে। যারা বিদেশে টাকা পাচার করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, আগামী এক বছরের মধ্য চা বাগানের সব নারী শ্রমিকের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে নারী পুরুষ একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নারীদের স্বাবলম্বী করতে না পারলে তাদের এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মৌলভীবাজার-৪ আসনের (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল) সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. আবু ইউসুফ ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকু, নাসির উদ্দিন আহমেদসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।


সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT