ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০ বছরের শিশু অন্তঃসত্ত্বা:গণমাধ্যমে তোলপাড়ের পর থানায় আত্মসমর্পণ অভিযুক্ত মহন

author
নেত্রকোণা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২০ জুন, ২০২৬ সকাল ৫:০৪
ad003
নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা আলোচিত মামলার পলাতক আসামি মহন তালুকদার (২৫) থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন।

কয়েক মাস আত্মগোপনে থাকার পর শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটে তিনি মোহনগঞ্জ থানায় হাজির হয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণের সময় মহন তালুকদার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। 

তিনি বলেন, অভিযোগের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। আল্লাহর প্রতি আস্থা রেখেই তিনি আত্মসমর্পণ করে বলে জানান।

থানা সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটে মহন তালুকদার থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানান। 

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন আত্মসমর্পণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হবে।

অভিযুক্ত মহন তালুকদার পৌর শহরের দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা এবং আবুল কালাম আজাদের ছেলে। তিনি মোহনগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তবে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর দলীয় সিদ্ধান্তে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা জীবিকার প্রয়োজনে বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। মা স্থানীয়ভাবে গৃহকর্মীর কাজ করে তিন মেয়েকে নিয়ে সংসার চালান। মামলায় শিশুটিকে আংশিক মানসিক প্রতিবন্ধী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর শিশুটির মা বাড়ির বাইরে কাজে গেলে প্রতিবেশী মহন তালুকদার ঘরে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণ করেন। পরে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য শিশুটিকে প্রাণনাশের হুমকিসহ ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এ কারণে শিশুটি দীর্ঘদিন ঘটনাটি গোপন রাখে।

পরে চলতি বছরের মার্চ মাসে শিশুটির শারীরিক অবস্থায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে শিশুটি ধর্ষণের ঘটনার কথা জানায়। 

১৩ মার্চ স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আলট্রাসনোগ্রাফি করালে তার ১৩ সপ্তাহের গর্ভধারণ ধরা পড়ে। পরবর্তীতে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষাতেও একই ফলাফল পাওয়া যায়। 

এরপর শিশুটির মা বাদী হয়ে গত ২৮ এপ্রিল আদালতে অভিযোেগ দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে মোহনগঞ্জ থানাকে মামলা রেকর্ড করার নির্দেশ দেন। 

সেই নির্দেশনার পর ২ মে ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন মহন তালুকদার। এদিকে গত মঙ্গলবার ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর পরপরই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা বাড়ায় পুলিশ। 

মোহনগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে অভিযুক্তের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছিল। তাকে আত্মসমর্পণের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেছেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।" 

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির পরিবার দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং দ্রুত বিচার দাবি করেছে। 
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT