সুনামগঞ্জ পৌর শহরের অত্যন্ত ব্যস্ততম এলাকা ষোলঘর—ধোপাখালী সড়ক। বৈদ্যুতিক খুঁটি মাঝে রেখেই এক বছর আগে ষোলঘর—ধোপাখালী সড়ক প্রশস্ত করা হয়। কিন্তু দুই দপ্তরের সমন্বয়হীনতায় এখনও সড়কের মাঝে দাঁড়িয়ে রয়েছে চারটি বৈদ্যুতিক খুঁটি। এতে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারী ও যানবাহনের চালকরা। দিনে যেমন—তেমন রাতে সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক সম্প্রসারণের পর এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও খুঁটিগুলো সরানোর বিষয়ে পৌরসভা ও বিদ্যুৎ বিভাগ কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি, এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। দুই দপ্তর একে অপরের ওপর দায় চাপিয়ে সময়ক্ষেপণ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, পৌরসভা বৈদ্যুতিক লাইন স্থানান্তরের অর্থ দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব। অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে জানালেন সুনামগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কালী কৃষ্ণ পাল।
দুই দপ্তরের এমন বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, একে অপরের ওপর দায় চাপিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হলেও জননিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষিত হচ্ছে। তারা অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সড়কের মাঝখানে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো অপসারণ করে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ষোলঘর—ধোপাখালী সড়কের পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের সামনে সড়কের মাঝখানে চারটি বৈদ্যুতিক খুঁটি দাঁড়িয়ে আছে। খুঁটিগুলোর কারণে যানবাহনকে হঠাৎ দিক পরিবর্তন করে চলতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের অন্ধকার ও বৃষ্টির সময়ে খুঁটিগুলো স্পষ্ট দেখা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা সাগর দাস বলেন, আগে সড়ক সরু ছিল, তখন খুঁটিগুলো সড়কের পাশে ছিল। কিন্তু সড়ক প্রশস্ত করার পর খুঁটিগুলো মাঝখানে চলে এসেছে। বৃহস্পতিবার রাতে বৃষ্টির মধ্যে খুঁটি দেখতে না পেয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যাই। আশপাশের লোকজন এসে আমাদেরকে তুলেছে, এরকম ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। বহুবার সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও এখনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ষোলঘর এলাকার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম সেলিম বলেন, উত্তর সুরমা এলাকার হাজারো মানুষ প্রতিদিন এই সড়কে যাতায়াত করেন। আশপাশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সরকারি—বেসরকারি অফিস এবং আবাসিক এলাকা থাকায় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক হয়ে উঠেছে। রাস্তা বড় করার সময় যদি খুঁটিগুলো সরিয়ে নেওয়া হতো, তাহলে আজ এ ধরনের ঝুঁকি থাকত না।
একই এলাকার বাসিন্দা মৃন্ময় দাস জয় বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ট্রাক, ভ্যানসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। আমিও কয়েকবার অল্পের জন্য খুঁটির সঙ্গে সংঘর্ষ থেকে রক্ষা পেয়েছি। ছোটখাটো দুর্ঘটনা প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে। বড় দুর্ঘটনার আগে কর্তৃপক্ষের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
স্থানীয় দোকানদার দুলাল মিয়া বলেন, বিষয়টি একাধিকবার বিদ্যুৎ বিভাগ ও পৌর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু দুই দপ্তরের সমন্বয়হীনতার কারণে এখনো সমস্যার সমাধান হয়নি। সেজন্য প্রতিদিন মানুষজন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।
অটোরিকশা চালক সুরঞ্জন বর্মন বলেন, বর্ষাকালে বৃষ্টি ও বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে খুঁটিগুলো দেখা যায় না। দুই দিন আগে একটি অটোরিকশা খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লেগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটছে। কর্তৃপক্ষ কি বড় কোনো দুর্ঘটনার অপেক্ষা করছে?
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাসেল আহমদ বলেন, বৈদ্যুতিক খুঁটি বা লাইন স্থানান্তরের জন্য নির্ধারিত ব্যয় রয়েছে— পৌরসভা যদি প্রয়োজনীয় অর্থ আমাদের অনুকূলে জমা দেয়, তাহলে আমরা খুঁটি অপসারণ করে নতুন স্থানে লাইন নির্মাণের ব্যবস্থা দিতে পারব।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কালী কৃষ্ণ পাল ভিন্ন বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, সড়ক সম্প্রসারণের পর থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো অপসারণের জন্য বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে একাধিকবার দাপ্তরিকভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে। রাস্তার কাজ শেষ হলেও খুঁটিগুলো এখনো অপসারণ না করায় জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
প্রয়োজনীয় অর্থ পরিশোধের বিষয়ে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে এখনো পৌরসভার কাছে কোনো ডিমান্ড নোট পাঠানো হয়নি।