ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানিকগঞ্জে চিনা বাদামের বাম্পার ফলন কৃষকের মুখে হাসি

author
শিবালয় (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২০ জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮
ad003
চলতি বছর মানিকগঞ্জের বিভিন্ন চরাঞ্চলে চিনা বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার শিবালয়, হরিরামপুর ও দৌলতপুর উপজেলায় চিনা বাদামের ব্যাপক ফলন হয়েছে। এর মধ্যে শিবালয়ের বিভিন্ন চরাঞ্চলে চিনা বাদামের আবাদ অনেক ভাল হয়ে থাকে। উন্নত জাতের বীজ, অনুকূল আবহাওয়া এবং কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে এ বছর চিনা বাদামের উৎপাদন গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। ফলে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দ দেখা দিয়েছে।

শিবালয়ের আলোকদিয়া, চর মধ্যনগর, বোষ্টমী, জাফরগঞ্জের চর, ত্রিশুন্ডি, দৌলতপুরের বাঘুটিয়া, চর কাটারী, হরিরামপরের লেছড়াগঞ্জ, সুতালড়ি, হারুকান্দি, বয়ড়া এলাকার বিভিন্ন কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সময়মতো বৃষ্টিপাত এবং অন্যান্য বছরের তুলনায় রোগবালাই তুলনামূলক কম থাকায় ফসলের ফলন আগের তুলনায় অনেক ভালো হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা আশা করছেন, বাজারে ন্যায্যমূল্য পেলে চলতি মৌসুমে তারা উল্লেখযোগ্য হারে মুনাফা অর্জন করতে পারবেন।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চিনা বাদামের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, সবুজ গাছে ভরা চিনাবাদামের ক্ষেত এখন ফলনে পরিপূর্ণ রুপ ধারণ করেছ। এলাকার কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাদাম ফসল সংগ্রহ ও বাজারজাত করণের প্রস্তুতিতেই তারা আনন্দে সময় পার করছেন। তবে, গত কয়েক বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে ভালো ফলন হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।

স্থানীয় অনেক কৃষকরা বলেছেন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার এবং উন্নত বীজ রোপনের ফলে উৎপাদন বেড়েছে। কৃষকদের সঠিক পরিচর্যা, সুষম সার প্রয়োগ এবং রোগ ও পোকা দমনে নিয়মিত তদারকির কারনে এবং সর্বোপরি কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই এবারের ফলন গত চেয়ে ভাল হয়েছে।

কয়েকজন কৃষি অফিসারের মতে, চিনাবাদাম একটি লাভজনক অর্থকরী ফসল। এর উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে কৃষকদের আয় বাড়ার পাশাপাশি দেশের ভোজ্যতেল শিল্পের কাঁচামালের চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে চিনা বাদাম।

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শাহজাহান সিরাজ জানান, মানিকগঞ্জের শিবালয়, হরিরামপুর ও দৌলতপুরে মোট ৩৬৪২ হেক্টর জমিতে চিনা বাদাম আবাদ করা হয়েছে এবং উৎপাদন হয়েছে ৭২৮৪ মেট্রিকটন। লক্ষমাত্রার চেয়ে আবাদ ভাল হয়েছে এবং গত বছরের তুলনায় ফলন বেশী হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

চিনা বাদামের বাম্পার ফলনের এই সাফল্যে কৃষকদের মুখে ফুটেছে মধুর হাসি। তবে চিনা বাদামের বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন এসব প্রান্তিক কৃষকরা।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT