চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চৌকা সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ২০ জন নাগরিককে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইন (অনুপ্রবেশ) করানোর চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
আজ শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের চৌকা সীমান্তের ১৭৭/২-এস পিলার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বিজিবির মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর ধাওয়া খেয়ে পিছু হটতে বাধ্য হন বিএসএফ সদস্যরা।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০/০৬/২৬ তারিখ শনিবার ভোরের দিকে চৌকা সীমান্ত এলাকা দিয়ে ৪টি শিশু, ১১ জন নারী ও ৫ জন পুরুষসহ মোট ২০ জনকে জোর করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিষয়টি টের পেয়ে চৌকা বিওপির হাবিলদার আশরাফ আলীর নেতৃত্বে বিজিবির একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তীব্র বাধা দেয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, বিজিবির বাধায় বিএসএফের প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও তারা পুনরায় ওই ২০ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে। এতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামের মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে বিজিবির পাশে এসে দাঁড়ায়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতার ধাওয়া খেয়ে বিএসএফ সদস্যরা ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
জানতে চাইলে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "বিজিবির টহল দলের কঠোর তৎপরতা ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে এই পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। ভুক্তভোগী ২০ জন মানুষ বর্তমানে সীমান্তের শূন্যরেখায় (নো ম্যান্স ল্যান্ড) অবস্থান করছেন। সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি ও জোরদার টহল রয়েছে।"