ঠাকুরগাঁওয়ের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট সাংবাদিক, বর্ষিয়ান রাজনীতিবীদ এবং শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ সৈয়দ মেরাজুল হোসেন (৮৩)'র রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার বেলা ১১-৩০ এ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাকে ঠাকুরগাঁও পাবলিক ক্লাব মাঠে পুলিশের এক চৌকস দল মরণোত্তর গার্ড অফ অনার প্রদান করে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ সময় পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন সদর উপজেলা ইউএনও খায়রুল ইসলাম।
দীর্ঘ রোগভোগের পরে শুক্রবার বেলা ২টায় ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন। (ইন্না-লিল্লাহ-------রাজেউন)।
বরেণ্য এই শিক্ষাবিদ, তুখোড় ইংরেজি মিডিয়ার সাংবাদিক ও আপোষহীন রাজনীতিবিদের ইন্তেকালের খবরে সারা জেলায় শোক নেমে আসে। ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবে জাতীয় পতাকায় আচ্ছাদিত তাঁর মরদেহ আনা হলে একে একে ফুলেল শ্রদ্ধা জানায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব, বেসরকারি সংস্থা ইএসডিও, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংষ্কৃতিক সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গ। এ সময় ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের সবগুলো গণ আন্দোলন, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা, সততা, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব ও ঠাকুরগাঁওয়ের একমাত্র 'দৈনিক' লোকায়ন প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান তাঁর কীর্তি উদারতা ন্যায় পরায়ণতার উল্লেখ করে স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য দেন, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মনোতোষ কুমার দে, ইএসডিও নির্বাহী পরিচালক ডঃ মুহাম্মদ শহীদ উজ জামানসহ সাংবাদিক অধ্যাপক ও বিশিষ্ট জনরা।
বেলা ১২ টায় তার ১ম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় ঠাকুরগাঁও পাবলিক ক্লাব মাঠে। বাদ জোহর পুরনো সেনুয়া গোরস্থান মসজিদ প্রাঙ্গণে মরহুমের ২য় জানাজা শেষে সেনুয়া গোরস্থানেই তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজা পরিচালনা করেন ঠাকুরগাঁও বড় মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা খলিলুর রহমান।
প্রয়াত অধ্যক্ষ সৈয়দ মেরাজুল হোসেন দীর্ঘদিন বাসস, ডেইলি অবজার্ভার, ডেইলি সানসহ জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও সংবাদ সংস্থায় সুনামের সাথে সাংবাদিকতা করেছেন। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই বর্ণাঢ্য ব্যক্তিত্ব উত্তরাঞ্চলে ইংরেজিতে নিউজ ও ফিচার লেখা সম্পাদনায় ছিলেন পথিকৃৎ।
ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের তিনি প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছাড়াও ছিলেন নির্বাহী কমিটির সভাপতি। তাঁর সভাপতিত্ব কালেই ২ বারের বেশি কেউ সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক হতে পারবেন না মর্মে গঠনতান্ত্রিক ঐতিহাসিক সংশোধনীটি পাশ হয়। একই সাথে তাঁর ছিল মুক্তিযুদ্ধ করা ও মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। এই বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন একজন আজীবন ত্যাগী রাজনীতিবীদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)'র কেন্দ্রীয় সদস্য এবং ঠাকুরগাঁও জেলা সভাপতি। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি একজন তালিকাভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা। একই সাথে এই অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বোটানিতে অনার্স-মাস্টার্স করা তুখোড় ছাত্র জার্মানিতে গিয়ে ২ বছরের উচ্চশিক্ষা নিয়ে এসেছিলেন।
ঠাকুরগাঁও জেলার উন্নয়ন সংগ্রামে বিশেষ করে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, নারী জাগরণ, কৃষক শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি ছিলেন আজীবন আপোষহীন ও ত্যাগী ব্যক্তিত্ব।
মৃত্যুকালে এই উদার দৃঢ়চেতা নিভৃতচারী ব্যক্তিত্ব স্ত্রী, দুই কন্যা, জামাতা, নাতি সহ আত্মীয় পরিজন শুভাকাঙ্ক্ষী ও অসংখ্য গুণমুগ্ধ ভক্ত রেখে গেছেন।