নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপমৃত্যুর একটি ঘটনায় নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে আবাসিক চিকিৎসক কর্মকর্তাসহ (আরএমও) তিন স্বাস্থ্যকর্মীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশকে অবহিত না করেই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
শোকজপ্রাপ্তরা হলেন— উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. অলক কান্তি তালুকদার, মেডিকেল অফিসার ডা. মৌমিতা দাস এবং উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) বিপ্লব হোসেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার দুপুরে উপজেলার বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের পাবই গ্রামের বাসিন্দা নিজাম উদ্দিনের দুই কন্যা নিহা আক্তার (৭) ও নোহা আক্তার (৩) পুকুরের পানিতে ডুবে মারা যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাটি অপমৃত্যু হওয়া সত্ত্বেও হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা বিষয়টি থানাকে অবহিত করেননি। বরং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ বিষয়টি জানতে পারে।
এ ঘটনায় থানা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সাংবাদিকরা বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোমেনুল ইসলামের নজরে আনেন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর শনিবার সকালে সংশ্লিষ্ট তিন স্বাস্থ্যকর্মীকে শোকজ নোটিশ প্রদান করা হয়। নোটিশে আগামী কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অপমৃত্যুর ঘটনা পুলিশকে জানানো বাধ্যতামূলক। তবে অতীতেও কয়েকটি ঘটনায় একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল বলে জানা গেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোমেনুল ইসলাম বলেন, “অপমৃত্যুর ঘটনায় পুলিশকে অবহিত করা সরকারি বিধির অংশ। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার নির্দেশনা দেওয়ার পরও তা অনুসরণ করা হয়নি। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট তিনজনকে শোকজ করা হয়েছে। তাদের ব্যাখ্যা পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”