ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারবাজার এলাকায় দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টিকারী শিশু তাবাসসুম ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ায় আগামী সোমবার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে বিচারক রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করেন। আলোচিত এ মামলার বিচার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন হওয়ায় বিষয়টি স্থানীয়সহ জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন তদন্ত শেষে গত ২৬ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে আদালত আসামি আবু তাহেরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা এবং অন্যান্য বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে উপজেলার বাদেডিহি গ্রামের চার বছর বয়সী শিশু তাবাসসুমকে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নিজের ভাড়া বাসায় নিয়ে যায় আবু তাহের। সেখানে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালানোর পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনা গোপন করতে মরদেহ একটি বস্তায় ভরে স্থানীয় আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে ফেলে রাখা হয়।
ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে কুষ্টিয়া থেকে আবু তাহেরকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।
নিহত শিশুর বাবা নজরুল ইসলাম ও মা হালিমা খাতুন রায়ের আগে আবারও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, “আমাদের একমাত্র সন্তানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিশুকে এমন ঘটনার শিকার হতে না হয়।”
এদিকে বহুল আলোচিত এ মামলার রায়কে কেন্দ্র করে কালীগঞ্জসহ পুরো জেলায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আদালতের রায়ের মাধ্যমে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে এবং অপরাধীদের জন্য একটি কঠোর বার্তা যাবে।