দিনাজপুর-৫ (ফুলবাড়ী–পার্বতীপুর) আসনে বিএনপির তৃণমূলের রাজনীতিতে গতি আনতে ঐক্যের বার্তা নিয়ে মাঠে নেমেছেন গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সহসভাপতি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যাক্তিগত আইন উপদেষ্ঠা ব্যারিস্টার একেএম কামরুজ্জামান জামান।
ঈদ-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় ও কর্মী সমাবেশে তিনি দলীয় ঐক্য জোরদার, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ঐক্য। দলীয় বিভেদ, ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে এক কাতারে দাঁড়াতে হবে। আগামী দিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ বিএনপিই সফলতা অর্জন করতে পারে।
গত সাত দিন ধরে ফুলবাড়ী ও পার্বতীপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় অনুষ্ঠিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৩ জুন থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির আওতায় পার্বতীপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন, ফুলবাড়ী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন এবং দুটি পৌরসভায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ব্যারিষ্টার এ কে এম কামরুজ্জামান জামান।
সমাবেশে তিনি বলেন, অতীতের নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে বিভক্ত না হয়ে আগামী দিনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করাই এখন প্রধান কাজ। তিনি বলেন, ‘যারা দীর্ঘদিন দলের জন্য শ্রম, সময় ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে যাঁরা রাজপথে থেকেছেন এবং নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করেছেন, তাঁদের অবদান কখনোই ভুলে যাওয়ার নয়।’
নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক অবদানকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ীতে এমন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যারা ত্যাগী, পরিশ্রমী, শিক্ষিত, জনবান্ধব এবং জনগণের আস্থাভাজন। ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রভাব নয়, সাংগঠনিক দক্ষতা ও জনসমর্থনের ভিত্তিতেই আগামীর নেতৃত্ব নির্ধারিত হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে গিয়ে প্রকৃত কর্মী এবং পরীক্ষিত নেতাদের খুঁজে বের করা হবে। দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব তাঁদের হাতেই তুলে দেওয়া হবে, যারা দলের আদর্শে বিশ্বাসী এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করতে প্রস্তুত।
স্থানীয় নেতা-কর্মিরা জানান গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিএনপির মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়েছিল। নির্বাচনের পর অনেক নেতাকর্মী নিজেদের কোণঠাসা মনে করছিলেন। সম্প্রতি ব্যারিষ্টার কামরুজ্জামান জামানের ধারাবাহিক কর্মসূচি ও মতবিনিময় সভাকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। তাঁরা মনে করছেন, দলীয় ঐক্য ও সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার হলে আগামী দিনে বিএনপি আরও শক্তিশালী অবস্থানে যেতে পারবে।
ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম মতি বলেন, দীর্ঘদিন পর কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একজন নেতার সরাসরি যোগাযোগে তৃণমূলের কর্মীরা উৎসাহিত হয়েছেন। এতে সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে বলে তিনি আশা করছেন।
সমাবেশগুলোতে ব্যারিষ্টার কামরুজ্জামান জামান নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘বিভাজন নয়, ঐক্যের পতাকা উড়াতে হবে। ব্যক্তি নয়, দলকে শক্তিশালী করতে হবে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতি পুনর্গঠনের সংগ্রামে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
উল্লেখ্য গত ত্রোয়দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৫ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ব্যারিষ্টার এ কে এম কামরুজ্জামান জামান, প্রতিপক্ষ সতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপি থেকে বহিস্কুত) এজেড এম রেজওয়ানুল হকের নিকট পরাজিত হওয়ার পর তিনি তার কর্মস্থল যুক্তরাজ্যে ফিরে যান, এতে বিএনপির ধানের শীষের পক্ষে থাকা নেতা-কর্মিদের মাঝে হতাশা দেখা দেয় এবং বিভিন্ন কাজ কর্মে এমপি গ্রুপের নিকট কোনঠাসা হয়ে পড়ে। কিন্তু গত ১২ জুন তিনি আবার তার নির্বাচনী এলাকায় ফিরে এসে নেতা-কর্মিদের সাথে মতবিনিময় ও সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করায় আবারো নেতা-কর্মিদের মাঝ চাঞ্চলতা ফিরে এসেছে।