মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার সায়েস্তা ইউনিয়নের সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণীর কক্ষে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে আলিফ (১৬) ও মারিয়া মাহি (১৪) নামে দুই শিক্ষার্থীকে বাধ্যতামুলক ছাড়পত্র দেন কর্তৃপক্ষ। ছাড়পত্র দেওয়ার পর আর বাড়ি ফিরেনি ওই ছাত্রী।
এ ঘটনার ৬ দিন পর রবিবার (২১ জুন) ৬টার দিকে পার্শবর্তী জামির্তা ইউনিয়নের চন্দননগর এলাকার একটি কাঠ বাগান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তার পচাগলা দ্বিখণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। সে উপজেলার চর লক্ষীপুর গ্রামের মিজান দেওয়ানের মেয়ে আর আলিফ একই উপজেলার কানাইনগর গ্রামের বরকত আলীর ছেলে। মরদেহ উদ্ধারের পর গণপিটুনি দিয়ে আলিফকে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে উত্তেজিত জনতা।
এঘটনায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে নিহত ছাত্রীর স্বজন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মাঝে। ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছেন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ।
নিহতের স্বজন, থানা পুলিশ ও বিদ্যালয় কর্তুপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুন উপজেলার সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যাহ্ন বিরতির সময়ে দশম শ্রেণির ছাত্র আলিফ ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মারিয়া মাহি একটি শ্রেণিকক্ষে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হন। ঘটনার পরপরই এনিয়ে কিছু শিক্ষার্থীদের মধ্যে কানাঘুষা শুরু হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি সর্বমহলে জানাজানি হয়। পরে স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এপ্রেক্ষিতে গত ১৫ জুন ওই দুই শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে ডেকে এনে সাদা স্ট্যাম্পে মুচলেকা নিয়ে বাধ্যতামুলক ছাড়পত্র দেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। ছাড়পত্র দেওয়ার পর ছাত্র আলিফ বাড়িতে ফিরলেও মারিয়া মাহি বাড়ি ফিরেনি। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিল সে। আত্মীয়স্বজনের বাড়ি ও সম্ভাব্য সকল স্থানে খোজাখুজি করার পরও মারিয়া মাহির সন্ধান পাচ্চিছিলনা স্বজনরা। রবিবার বিকেলে ৪ টার দিকে উপজেলার চন্দননগর কবরস্থানের পাশে একটি কাঠ বাগানে একটি গাছের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় কোমর থেকে বিচ্ছিন্ন একটি পচাগলা দ্বিখণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। মরদেহের নিচেই পরেছিল তার ব্যবহৃত স্কুল ব্যাগ ও জুতা। এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি নিখোঁজ ছাত্রীর মারিয়া মাহির বলে সনাক্ত করেন পরিবারের সদস্যরা।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মাজহারুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে সন্ধা ৬ টার দিকে একটি গাছের সাথে ওড়না দিয়ে ফাঁসি দেওয়া অবস্থায় নিহত মারিয়া মাহির পচাগলা দ্বিখণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। মরদেহের কোমরের নিচের অংশ মাটিতে পরেছিল। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজের দিনই সে মারা গেছে। কারো হাতে হত্যার শিকার হতে পারে আবার লাজলজ্জার ভয়ে আত্মহত্যাও করতে পারে। ময়নাতদন্তের পর তার মৃত্যুর আসল রহস্য নিশ্চিত হওয়া যাবে। এঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আলিফকে আটক করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।