নাটোরের লালপুর উপজেলার অর্জুনপুর-বরমহাটি ইউনিয়নের শ্রীরামগাড়ী এলাকায় অবস্থিত সাজিদ জুট মিলসে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে নাটোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও লালপুর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় গত ২২জুন সোমবার রাত ভর অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৬ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত মালামাল এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে ১২ থেকে ১৪ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে লালপুর উপজেলার শ্রীরামগাড়ী গ্রামে অবস্থিত “সাজিদ জুট মিলস”-এ প্রবেশ করে। ডাকাতরা প্রতিষ্ঠানের এক মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারসহ চারজন কর্মচারীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং তাদের মারধর করে হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে পৃথক কক্ষে আটকে রাখে।
এরপর রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর ৪টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী তাণ্ডব চালিয়ে তারা জুট মিল থেকে প্রায় ৮৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। ডাকাতরা এ সময় ধারালো ছুরি, চাপাতি, লোহার রড ও কাটার মেশিন ব্যবহার করে এবং ট্রাকযোগে লুণ্ঠিত মালামাল সরিয়ে নেয়।
ঘটনার পর জুট মিলের মালিক সাজিদ মল্লিক লালপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় লালপুর থানায় গত ৩০ মে ২০২৬ তারিখে ডাকাতি মামলা রুজু করা হয়।
মামলার তদন্তে নাটোর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ শরীফুল হকের সার্বিক নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ইফতেখায়ের আলমের তত্ত্বাবধানে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাসুম যৌথভাবে গত ২২ শে জুন সোমবার অভিযান পরিচালনা করেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পাবনা জেলার আটঘরিয়া ও সদর থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের সদস্যদের গ্রেফতার করা হয় এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন মাহতাব মৃধা (৩২), লিটন প্রামানিক (৪৬), সেলিম হোসেন (৩২), সাদ্দাম হোসেন (৩৫), আব্দুল খালেক (৩৪) ও সাগর শেখ (২২)। তারা সবাই পাবনা জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশের অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ৩০০ কেজি তামার তার, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মিনি পিকআপ, একটি ব্যাটারিচালিত চার্জার ভ্যান, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং লুণ্ঠিত মালামাল বিক্রির ৫০ হাজার টাকা।
নাটোর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ডাকাত দলের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।