অনিয়ম ও ত্রুটিপূর্ণ খননের অভিযোগ উঠেছে জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত গাজীপুরের শ্রীপুরের চৌক্কার খাল পূণঃখনন কাজের। যা নিয়ে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা দেখা দিয়েছে। দখল দূষণে অস্থিত্ব সংকটে থাকা খালটি ১৯৮০সালে শহীদ রাষ্টপতি জিয়াউর রহমান নিজ উদ্যোগে ও স্বেচ্ছা শ্রমের মাধ্যমে সকলকে নিয়ে মাটি কেটে তৈরি করেছিলেন।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সরেজমিনে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, শ্রীপুর পৌরসভার দোখলা বাজার থেকে উৎপন্ন হয়ে পৌর এলাকার ভাংনাহাটি গ্রামের (ছাপিলাপাড়া) গিয়ে কৃষি জমিতে মিলিত হয়েছে। ৬.৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের, ২মিটার প্রস্থের চৌক্কার খালটি ২বছর মেয়াদি কাজের নির্দেশনা থাকলেও ১৮০ দিনের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পুর্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে । যদিও ইতোমধ্যে ৬০দিনের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। গত একমাস পূর্বে ঢাকঢোল পিটিয়ে এর আনুষ্ঠানিক খনন কাজ শুরু করে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী অন্যন্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে আনুষ্ঠানিক কাজের উদ্বোধন করেন। খনন কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১কোটি ৭৮ লাখ টাকারও কিছু উপরে। সেসময় বলা হয়েছিল, জিয়াউর রহমানের স্মৃতি ধরে রাখতে খালটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খনন করা হবে। অথচ, শুরুতেই আশপাশের অবৈধ দখল উচ্ছেদ ছাড়া এক্সকাভেটরের মাধ্যমে নামমাত্র খনন কাজ করা হয়। খননের এক সপ্তাহ পরে খালটি পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে। স্থানীয় পরিবেশ কর্মী ও সচেতন নাগরিকদের প্রতিবাদের মুখে কয়েকটি অংশে ফের কোদাল দিয়ে খনন কাজ করা হয়েছে। যদিও, খালের বেশিরভাগ অংশেই আগের মতোই ময়লা বর্জ্য মাটি দিয়ে ভরে গেছে। কোথাও আবার খননের চিহ্ন চোখে পড়েনি। একেক জায়গায় শুধুমাত্র কিছু কাঁদামাটি পাড়ে স্তুপ করে রাখা হয়েছে। বৃষ্টির পানির সাথে মিশে সেগুলোও আবার খালে চলে গিয়ে পূনরায় খাল ভরাট হচ্ছে। যা নিয়ে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন,মনেই হয় না খাল খনন চলছে। কারন,খননের একসপ্তাহ পর খালের অবস্থা আগের মতোই। শুধুমাত্র কিছু কাঁদামাটি তুলে তীরে রেখেছে। যা বৃষ্টিতে আবার খালে গিয়ে ভরাট হচ্ছে। এখন আবার কোদাল দিয়ে সেগুলো উপরে ওঠানো হচ্ছে।
ময়েজউদ্দিন নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন,' আমাদের এলাকার স্মৃতি ও ঐতিহ্য এই খালটি পুনঃখননের খবরে সকলের মধ্যে একটা আনন্দ দেখা দিয়েছিল। এখন নামমাত্র খননের কাজ দেখে আমরা হতাশ। কারখানার ময়লা বর্জ্য সরিয়ে আবার খালেই দেওয়া হচ্ছে।'
একই এলাকার শেখ ফারুক বলেন,' খালের জমি কারখানার দখলে দিয়ে এখন খননের নামে জনগণের টাকা লুটপাট করা হচ্ছে। এ যেনো দেখার কেউ নেই।'
নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন,'খালের তীরের অনেক জায়গায় কারখানা দখল করে আছে। আবার ওইসব কারখানা থেকে কেমিক্যাল মিশ্রিত দূষিত পানি ছাড়া হচ্ছে। জিয়াউর রহমানের স্মৃতি রক্ষার্থে খালটি নিয়ম মেনে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মান বজায় রেখে পুনঃখনন করার দাবি জনসাধারণের। কিন্তু ইদানীং দেখা যায়, ছোট্ট কোদাল হাতে দুজন শ্রমিক খালের মাঝখানে দাঁড়িয়ে মাটি সরাচ্ছে। এটা হাস্যকর মনে হচ্ছে অনেকের কাছে। তাই, আমরা চাই কাজের সঠিক তদারকি হোক।'
খনন কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্বচ্ছ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম বলেন,' খালের যেসব স্থানে এক্সাকাভেটর দিয়ে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না সেসব স্থানে কোদাল দিয়ে মাটি সরানো হচ্ছে। আমরা অনিয়ম করে কাজ করছিনা। যেহেতু সময় বাকি আছে আমরা বরাদ্দের পরিপূর্ণ অর্থ দিয়ে কাজ করে যাবো।'
প্রকল্প পরিচালক সিরাজুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন,' কয়েকজন মৌখিক ভাবে জানিয়েছে খনন কাজে অনিয়ম হচ্ছে । কোদাল দিয়ে খননের বিষয়টি জেনেছি। এক্সাকাভেটর দিয়ে খননের সময় যে মাটি বা কাঁদা ওঠে আসছে না সেগুলো কোদাল দিয়ে ওঠানো হচ্ছে। তবে মাঝামাঝি স্থান থেকে ওঠানোর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর কাজ শেষ হলে আমরা সরেজমিনে দেখে মন্তব্য জমা দিবো।'
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার প্রয়োজনে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নূরুল করিম ভূঁইয়ার ব্যবহৃত সরকারি নাম্বারে ও ওয়াটসআপে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে ইনবক্সে ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো প্রত্যুত্তর দেননি।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সরেজমিনে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, শ্রীপুর পৌরসভার দোখলা বাজার থেকে উৎপন্ন হয়ে পৌর এলাকার ভাংনাহাটি গ্রামের (ছাপিলাপাড়া) গিয়ে কৃষি জমিতে মিলিত হয়েছে। ৬.৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের, ২মিটার প্রস্থের চৌক্কার খালটি ২বছর মেয়াদি কাজের নির্দেশনা থাকলেও ১৮০ দিনের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পুর্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে । যদিও ইতোমধ্যে ৬০দিনের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। গত একমাস পূর্বে ঢাকঢোল পিটিয়ে এর আনুষ্ঠানিক খনন কাজ শুরু করে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী অন্যন্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে আনুষ্ঠানিক কাজের উদ্বোধন করেন। খনন কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১কোটি ৭৮ লাখ টাকারও কিছু উপরে। সেসময় বলা হয়েছিল, জিয়াউর রহমানের স্মৃতি ধরে রাখতে খালটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খনন করা হবে। অথচ, শুরুতেই আশপাশের অবৈধ দখল উচ্ছেদ ছাড়া এক্সকাভেটরের মাধ্যমে নামমাত্র খনন কাজ করা হয়। খননের এক সপ্তাহ পরে খালটি পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে। স্থানীয় পরিবেশ কর্মী ও সচেতন নাগরিকদের প্রতিবাদের মুখে কয়েকটি অংশে ফের কোদাল দিয়ে খনন কাজ করা হয়েছে। যদিও, খালের বেশিরভাগ অংশেই আগের মতোই ময়লা বর্জ্য মাটি দিয়ে ভরে গেছে। কোথাও আবার খননের চিহ্ন চোখে পড়েনি। একেক জায়গায় শুধুমাত্র কিছু কাঁদামাটি পাড়ে স্তুপ করে রাখা হয়েছে। বৃষ্টির পানির সাথে মিশে সেগুলোও আবার খালে চলে গিয়ে পূনরায় খাল ভরাট হচ্ছে। যা নিয়ে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন,মনেই হয় না খাল খনন চলছে। কারন,খননের একসপ্তাহ পর খালের অবস্থা আগের মতোই। শুধুমাত্র কিছু কাঁদামাটি তুলে তীরে রেখেছে। যা বৃষ্টিতে আবার খালে গিয়ে ভরাট হচ্ছে। এখন আবার কোদাল দিয়ে সেগুলো উপরে ওঠানো হচ্ছে।
ময়েজউদ্দিন নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন,' আমাদের এলাকার স্মৃতি ও ঐতিহ্য এই খালটি পুনঃখননের খবরে সকলের মধ্যে একটা আনন্দ দেখা দিয়েছিল। এখন নামমাত্র খননের কাজ দেখে আমরা হতাশ। কারখানার ময়লা বর্জ্য সরিয়ে আবার খালেই দেওয়া হচ্ছে।'
একই এলাকার শেখ ফারুক বলেন,' খালের জমি কারখানার দখলে দিয়ে এখন খননের নামে জনগণের টাকা লুটপাট করা হচ্ছে। এ যেনো দেখার কেউ নেই।'
নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন,'খালের তীরের অনেক জায়গায় কারখানা দখল করে আছে। আবার ওইসব কারখানা থেকে কেমিক্যাল মিশ্রিত দূষিত পানি ছাড়া হচ্ছে। জিয়াউর রহমানের স্মৃতি রক্ষার্থে খালটি নিয়ম মেনে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মান বজায় রেখে পুনঃখনন করার দাবি জনসাধারণের। কিন্তু ইদানীং দেখা যায়, ছোট্ট কোদাল হাতে দুজন শ্রমিক খালের মাঝখানে দাঁড়িয়ে মাটি সরাচ্ছে। এটা হাস্যকর মনে হচ্ছে অনেকের কাছে। তাই, আমরা চাই কাজের সঠিক তদারকি হোক।'
খনন কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্বচ্ছ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম বলেন,' খালের যেসব স্থানে এক্সাকাভেটর দিয়ে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না সেসব স্থানে কোদাল দিয়ে মাটি সরানো হচ্ছে। আমরা অনিয়ম করে কাজ করছিনা। যেহেতু সময় বাকি আছে আমরা বরাদ্দের পরিপূর্ণ অর্থ দিয়ে কাজ করে যাবো।'
প্রকল্প পরিচালক সিরাজুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন,' কয়েকজন মৌখিক ভাবে জানিয়েছে খনন কাজে অনিয়ম হচ্ছে । কোদাল দিয়ে খননের বিষয়টি জেনেছি। এক্সাকাভেটর দিয়ে খননের সময় যে মাটি বা কাঁদা ওঠে আসছে না সেগুলো কোদাল দিয়ে ওঠানো হচ্ছে। তবে মাঝামাঝি স্থান থেকে ওঠানোর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর কাজ শেষ হলে আমরা সরেজমিনে দেখে মন্তব্য জমা দিবো।'
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার প্রয়োজনে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নূরুল করিম ভূঁইয়ার ব্যবহৃত সরকারি নাম্বারে ও ওয়াটসআপে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে ইনবক্সে ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো প্রত্যুত্তর দেননি।