ঢাকা | মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারী শ্রমিকের মৃত্যুর জেরে সড়ক অবরোধ-বিক্ষোভ! ছুটি না দেওয়ার অভিযোগ

author
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২৫ জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৫২
ad003
গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি পোশাক কারখানায় রাতের শিফটে কর্মরত অবস্থায় লিজা আক্তার নামের এক নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় কারখানার কর্মকর্তাদের দায়ী করে বিচার দাবিতে বিক্ষোভ ও ভাংচুর করেছেন শ্রমিকরা। 

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালের দিকে উপজেলার টেপিরবাড়ি গ্রামে কালার এন্ড কোং পোশাক কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। 

এসময় কারখানাটির সামনের মাওনা-বরমী আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে রাখে শ্রমিকরা। দুই ঘন্টা পর পুলিশের মধ্যস্থতায় বিক্ষোভ তুলে নেন তারা। 

নিহত শ্রমিক লিজা আক্তার (৩৬) পিরোজপুর জেলার নাজিরাপুর উপজেলার হোগলা গ্রামের বিদ্যুৎ মিয়ার স্ত্রী। তিনি শ্রীপুরের আনসার রোড এলাকয় একটি ভাড়া বাসায় থেকে ওই কারখানায় চাকরি করতেন। 

স্থানীয় লোকজন ও আন্দোলনকারী শ্রমিকদের দেওয়া তথ্য জানা যায়, কালার কোং লিমিটেড কারখানায় বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে লিজা আক্তার কর্মরত অবস্থায় হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে দ্রুত শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেই রাতেই সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।  এর আগেই তিনি অসুস্থতার কারণে কারখানার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে  ছুটি চেয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন তার সহকর্মীরা। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সেই আবেদন নামঞ্জুর করেছিলেন। একই রাতে মোসা. শোভা নামের আরেক নারী শ্রমিকও অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে মাওনা চৌরাস্তার আল হেরা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন। 
নিহতের সহকর্মী রাজিয়া খাতুন বলেন,'আগেও  অসুস্থতার কারণে ১৫ দিনের ছুুুটি কাটিয়েছিলেন লিজা আক্তার । ছুটি শেষে বুধবার তিনি কারখানায় কাজে যোগ দেন। পরে আবারো অসুস্থ্যতা অনুভব করায় তিনি পুনরায় ছুটি চেয়েছিলেন। কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ তাকে ছুটি দেয়নি।'

আন্দোলনকারী শ্রমিকদের মধ্যে আমিনুল ইসলাম নামে একজন অভিযোগ করে বলেন, এই কারখানায় সকাল ৮টায় কাজ শুরু হলেও রাত ১২টা, এমনকি কোনো কোনো দিন রাত ২টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হয়। তার পরদিন আবার সকাল ৮টায় কাজে আসতে হয়। এই দীর্ঘ কর্মঘণ্টার ফলে শ্রমিকরা শারীরিকভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন।"

কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সুপারভাইজারদের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও তুলে মরিয়ম খাতুন নামে আরেক শ্রমিক বলেন,' ওরা আমাদেরকে মানুষ মনে করে না। কেউ প্রতিবাদ করলে সিসিটিভি ফুটেজে তাকে শনাক্ত করে পরে চাকরিচ্যুত বা হয়রানি করা হয়। শ্রমিকরা জেলখানার মতো আছে।' 

আল আমিন নামের আরেকজন বলেন, 'দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করানোর ফলে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়লেও কর্তৃপক্ষ তাদের ছুটি দিতে অনিহা দেখায়। অসুস্থতার কারণে লিজাও ছুটি পাননি। অবশেষে তার কারখানার ভেতরেই মৃত্যু হলো। তিনি এই ঘটনার বিচার দাবি করেন।' 

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার বিজন মালাকার বলেন, 'বুধবার রাতে লিজা নামের এক নারীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। আমরা পুলিশকে অবগত করেছি।'

মাওনা চৌরাস্তার আল হেরা হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও চিকিৎসক আবুল হোসেন বলেন,'শোভা আক্তার নামের এক নারী শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে তার হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।'

এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে কারখানার কর্তৃপক্ষের কারো সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। 

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. শাহীনুর আলম যায়যায়দিনকে বলেন,'ছুটি না পেয়ে কারখানার ভেতরে কর্মরত এক শ্রমিক মৃত্যু হওয়ার জেরে শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করছিলেন। তাদের বুঝিয়ে ও আলোচনা করে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন তারা কারখানার সামনে বিক্ষিপ্তভাবে অবস্থান করছে। সেখানে পরিস্থিত স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে।'

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT