ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে এক তরুণীর ছবি ও ভিডিও বিকৃত করে অশ্লীলভাবে প্রচার, মানহানিকর মন্তব্য প্রকাশ এবং দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে হয়রানির অভিযোগে এক সাবেক সেনাসদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গ্রেপ্তার ব্যক্তি মো. সারোয়ার হোসেন খান (৪০)। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের নুরুল ইসলাম খানের ছেলে। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহনগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল লতিফ জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গত বৃহস্পতিবার বিকেলে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকা থেকে সিআইডির একটি দল সারোয়ার হোসেন খানকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে মোহনগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়। শুক্রবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৪ এপ্রিল ভুক্তভোগী তরুণী মোহনগঞ্জ থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
পাশাপাশি নারীদের জন্য সাইবার সুরক্ষা-সংক্রান্ত সেলেও পৃথক অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তকে শনাক্তের কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় সিআইডি অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
ভুক্তভোগী তরুণী অভিযোগ করে বলেন, একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে তার ছবি সম্পাদনা করে অশ্লীলভাবে প্রকাশ করা হতো।
এমনকি তার স্বাভাবিক ভিডিও বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে নিয়মিত মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাকে নানা ধরনের কটূক্তি ও সামাজিক অপমানের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরাও চরম মানসিক যন্ত্রণা ও সামাজিক বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। একপর্যায়ে নিরাপত্তাহীনতায় তিনি নিজ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হন।
তিনি বলেন, “আমি অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো নারী এ ধরনের সাইবার হয়রানির শিকার না হন।”
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।