ঢাকা | শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পেকুয়ায় পুত্রবধুর আর্তচিৎকার শুনে ছুটে এসে খুন হলেন ৭৫ বছরের আবু তাহের

author
পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২৭ জুন, ২০২৬ ভোর ৪:৫১
ad003
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের হারুণ মাতবর পাড়া এলাকায় পুত্রবধুকে রক্ষায় এগিয়ে এসে আবু তাহের (৭৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

শুক্রবার (২৬ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে হামলার ঘটনা ঘটলেও রাত সাড়ে ১০টার দিকে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   

নিহত আবু তাহের একই এলাকার মৃত আবদু ছত্তরের ছেলে।

পরিবারের অভিযোগ, একই এলাকার নুরুল হোসেনের ছেলে শিফাত, শাহ আলমের ছেলে বাহাদুরসহ আরও কয়েকজন সংঘবদ্ধভাবে এ হামলা চালায়। তাদের দাবি, প্রবাসী ছেলে কাইছারের স্ত্রী তৈয়বা বেগমের বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে ধর্ষণের চেষ্টা করা হলে তার চিৎকার শুনে আবু তাহের ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ সময় হামলাকারীরা তার হাতে থাকা দা কেড়ে নিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে এবং পরে বাড়ির পাশের পুকুরে ফেলে দেয়।

পরিবারের সদস্যরা চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুর থেকে আবু তাহেরকে উদ্ধার করে দ্রুত পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের নাতনি তাসফিয়া জানায়, আমার দাদুকে প্রথমে হাতে কোপ দেয়। এরপর তাকে পানিতে ফেলে দেয়। আমরা পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু চিকিৎসক জানান, তিনি আর বেঁচে নেই।

নিহতের পুত্রবধু ছকিনা বেগম বলেন, আমার জা তৈয়বা বেগমের চিৎকার শুনে শ্বশুর ঘটনাস্থলে যান। সেখানে শিফাত, বাহাদুরসহ কয়েকজন তাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও কুপিয়ে আহত করে পুকুরে ফেলে দেয়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিহতের প্রবাসী ছেলে কাইছারের স্ত্রী তৈয়বা বেগমের সঙ্গে অভিযুক্ত শিফাতের একসময় ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল বলে এলাকায় আলোচনা ছিল। কয়েক মাস আগে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হয়। এরপর তৈয়বা বেগম ওই সম্পর্ক থেকে সরে আসেন বলে দাবি পরিবারের।

এরপর থেকেই শিফাত ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন সময় রাতে বাড়ির সামনে গিয়ে ঢিল ছোড়া, অশ্লীল মন্তব্য করা এবং উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার রাতেও একই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।

পরিবারের দাবি, ঘটনার রাতে শিফাত, বাহাদুরসহ কয়েকজন বাড়ির সামনে এসে ঢিল ছোড়ে এবং বিভিন্ন অশ্লীল ভাষায় ডাকাডাকি করে। দরজা না খোলায় তারা জোরপূর্বক বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় তৈয়বা বেগম চিৎকার শুরু করলে আবু তাহের তাকে রক্ষায় এগিয়ে যান। তখনই তার ওপর হামলা চালানো হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, শিফাত ও বাহাদুরের নেতৃত্বে একটি বখাটে চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। বিশেষ করে প্রবাসীদের পরিবারের নারীদের উত্ত্যক্ত করা, প্রেমের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা এবং প্রতিবাদকারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুছ চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। খবর পেয়ে আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। গ্রাম পুলিশ নিয়ে জড়িতদের খোঁজার চেষ্টা করেছি। ভুক্তভোগী পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

ঘটনার পরপরই পুলিশের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, রাতে এত বড় একটি হত্যাকাণ্ড ঘটলেও পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন বা আসামিদের ধরতে দৃশ্যমান কোনো অভিযান চালায়নি। শুধু হাসপাতাল থেকে মরদেহ থানায় নেওয়ার দায়িত্ব পালন করেছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে পেকুয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। একের পর এক খুন, হামলা ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি হাসান জানান, আবু তাহের নামে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।  বিস্তারিত পরে জানা যাবে।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT